Miguel Figueira

বাই বাই ইস্টবেঙ্গল, বিশ্বকাপ আবহে ‘সোনার ছেলে’ মিগুয়েলকে দলে নিল মোহনবাগান

ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার মোহনবাগানে চলে যাওয়ায় রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। শুক্রবার মোহনবাগানের সোশাল মিডিয়া থেকে এক ভিডিওর মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়।

Advertisement
প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ১০, ২০২৬, ১৬:৩৮

options
link
বাই বাই ইস্টবেঙ্গল, বিশ্বকাপ আবহে ‘সোনার ছেলে’ মিগুয়েলকে দলে নিল মোহনবাগান
মোহনবাগানে মিগুয়েল। ছবি ইনস্টাগ্রাম। ছবি এআই নির্মিত।

বিশ্বকাপের আবহেই বড়সড় চমক মোহনবাগানের। আইএসএলের গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে দু’বছরের চুক্তিতে দলে নিল সবুজ-মেরুন শিবির।

Advertisement

গত মাসেই শোনা গিয়েছিল, মোহনবাগানের সঙ্গে কথা চালাচ্ছেন এই মিডিও। একটি পোস্টও করেছিলেন। তাতে জল্পনা আরও প্রবল হয়। তিনি লিখেছিলেন, ‘বন্ধুরা তোমাদের থেকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবে খেলতে পেরে আমি সম্মানিত। আগামীর সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা রইল। ধন্যবাদ।’ দেখার ছিল, আদৌ মোহনবাগান তাঁর নাম সরকারিভাবে ঘোষণা করে কি না। সেই জল্পনার অবসান হল এবার। মিগুয়েল মোহনবাগানেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২৬ বছর বয়সি এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার কেরিয়ারের শুরুতে ব্রাজিলের সিরি ‘এ’-তে খেললেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের হয়ে। টানা তিন মরশুম বাংলাদেশের ক্লাবটিকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর গত মরশুমে তিনি ভারতীয় ফুটবলে পা রাখেন। অভিষেক মরশুমেই ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শিরোপাও জেতেন। ১২ ম্যাচে ২টি গোলের পাশাপাশি ৫টি অ্যাসিস্ট করে জিতে নেন আইএসএলের সেরা ফুটবলারের সম্মান গোল্ডেন বল।

Advertisement

মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পর ব্রাজিল থেকে ক্লাব মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মোহনবাগানের সমর্থকরা ব্রাজিলের সমর্থকদের মতোই আবেগপ্রবণ। কলকাতায় এক বছর খেলেই বুঝেছি, সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে জয় আর ট্রফিই সবকিছু। সেই প্রত্যাশার চাপ আমি উপভোগ করি। খুব শীঘ্রই সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছি। দেশের সেরা ক্লাবের সেরা সমর্থকদের সামনে খেলতে পারা আমার কাছে ভীষণ রোমাঞ্চকর।” মোহনবাগানের প্রস্তাব পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। মিগুয়েলের কথায়, “প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রথমে স্ত্রীকে জানাই। দেশের সেরা ক্লাবে খেলার সুযোগ সহজে আসে না। কয়েক দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ক্লাবের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তারপরই মোহনবাগানে খেলার সিদ্ধান্ত নিই।”

গত মরশুমে মাঝমাঠে ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারের অভাবে ভুগেছে মোহনবাগান। জেমি ম্যাকলারেনরা মাঝমাঠ থেকে সেভাবে বল পাননি। মিগুয়েল যোগ দেওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর সংযোজন, “আমি গোল করার চেয়ে অ্যাসিস্ট করতেই বেশি পছন্দ করি। সামনে জেমি ম্যাকলারেনের মতো গোলস্কোরার থাকবে। ওর সঙ্গে মাঠে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে তুললে গোল আসবে।”

কলকাতা ডার্বি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মিগুয়েল। তাঁর বক্তব্য, “কলকাতা ডার্বির আবেগ আমি জানি। ডার্বির দিনের মতো আর কোনও ম্যাচ নেই। এবার সবুজ-মেরুন জার্সিতে সেই ম্যাচ খেলব। সমর্থকদের আশ্বস্ত করছি, যে প্রতিযোগিতাতেই ডার্বি হোক না কেন, জয়ের জন্য আমি শতভাগ উজাড় করে দেব। সমর্থকদের হতাশ করতে চাই না।” বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবলের তুলনাও টেনেছেন তিনি। মিগুয়েলের মতে, “ভারতের লিগ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ভারতীয় ফুটবলাররা অনেক বেশি প্রতিভাবান ও দক্ষ।”

তাছাড়াও আলবার্তো রডরিগেজের প্রশংসাও করেছেন মিগুয়েল। তাঁর মন্তব্য, “আলবার্তোর বিরুদ্ধে ডার্বিতে খেলেছি। ওকে টপকে যাওয়া খুব কঠিন। ও শক্তিশালী। গতিও আছে। আমার দেখা আইএসএলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।” ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল জয়ের নেপথ্যে মিগুয়েলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন আগামী মরশুমেও লাল-হলুদ জার্সিতেই দেখা যাবে মিগুয়েলকে। কিন্তু ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার মোহনবাগানে চলে যাওয়ায় রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। শুক্রবার মোহনবাগানের সোশাল মিডিয়া থেকে এক ভিডিওর মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.