FIFA World Cup 2026

পাতলা ফিনফিনে, ওজন মাত্র ৭২ গ্রাম, ছিঁড়ে যাচ্ছে জার্সি, বিশ্বকাপে কেন এমন অপেশাদারিত্ব?

সব দিক থেকে নিখুঁত এক বিশ্বকাপ আয়োজন করার লক্ষ্য রেখেছে ফিফা। কিন্তু কিছু বিতর্কও রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ফুটবলারদের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়া। কোন কোন ম্যাচে ছিঁড়েছে জার্সি?

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৬:২১

options
link
পাতলা ফিনফিনে, ওজন মাত্র ৭২ গ্রাম, ছিঁড়ে যাচ্ছে জার্সি, বিশ্বকাপে কেন এমন অপেশাদারিত্ব? zoom
বিশ্বকাপে জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়ে চর্চা অব্যাহত। ছবি সংগৃহীত।

সব দিক থেকে নিখুঁত এক বিশ্বকাপ আয়োজন করার লক্ষ্য রেখেছে ফিফা। কিন্তু কিছু বিতর্কও রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ফুটবলারদের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়া। বিবিসির সাংবাদিক ড্যানিয়েল অস্টিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত চার ফুটবলারের জার্সি ম্যাচ চলাকালীন ছিঁড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে খেলার মাঝপথে মাঠ থেকে বেরিয়ে নতুন জার্সি পরে ফের মাঠে নামতে হয়েছে। প্রশ্ন হল, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কেন এমন অপেশাদারিত্ব?

প্রসঙ্গত, ওই চার ফুটবলারের জার্সি তৈরি করেছে পুমা। সেই কারণেই তার মান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে ফুটবল মহলে। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেকিয়া, আমেরিকা বনাম প্যারাগুয়ে, মিশর-বেলজিয়াম, স্কটল্যান্ড বনাম মরক্কো ম্যাচে জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যচের কথা ধরা যাক। ২৫ মিনিটে চেক রিপাবলিকের মিডফিল্ডার পাভেল সুলচ বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্ডার পিছন থেকে জার্সি টেনে ধরায় তা ছিঁড়ে যায়। আমেরিকা-প্যারাগুয়ে ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৮ মিনিট। প্যারাগুয়ের অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার গুস্তাভো গোমেজের জার্সি আমেরিকার ফরওয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় একপাশ দিয়ে প্রায় পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়। কিছুক্ষণ তিনি ছেঁড়া অংশ শর্টসের মধ্যে গুঁজে খেললেও পরে জার্সি বদলাতে বাধ্য হন।

এখানেই শেষ নয়। মিশরের উইঙ্গার মুস্তাফা জিকোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ম্যাক্সিম দে কুইপার তাঁকে টেনে ফেলে দিলে তাঁর জার্সি মাঝ বরাবর ছিঁড়ে যায়। এদিকে মরক্কোর মিডফিল্ডার নেইল এল আয়নাউইয়ের জার্সিও স্কটল্যান্ডের সেন্টার ব্যাক জ্যাক হেন্ড্রির টানে ছেঁড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কর্নার কিকের আগে ডি-বক্সের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর তিনি পেনাল্টির দাবি জানিয়ে রেফারিকে নিজের ছেঁড়া জার্সিও দেখান। ঘটনাচক্রে অন্য ব্র্যান্ডের জার্সির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। কেবলমাত্র পুমার ক্ষেত্রেও জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এরপর আতশকাচের তলায় জার্সির উপাদান।

জার্সিগুলো পুমার নতুন ‘আল্ট্রাওয়েভ’ প্রযুক্তির। যা খুবই হালকা। আরামদায়কও। ওজন মাত্র ৭২ গ্রাম। এতে পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। কেন এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিয়েস্টারের ব্যবহার? যাতে স্ট্রেচ করা যায়, তাই এই বিশেষ প্রযুক্তি। আর সেটাই বুমেরাং হয়ে গিয়েছে। পুমা জানিয়েছে, দীর্ঘ পরীক্ষানিরীক্ষার পর এই জার্সি বানানো হয়েছে। পুমার বক্তব্য, “খেলোয়াড়রা আরও হালকা জার্সি পছন্দ করেন। এতে নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরা সহজ হয়। তবে ফুটবলের মতো বডি কন্ট্যাক্ট গেমে জার্সি ছিঁড়ে যেতেই পারে। তাতে অতিরিক্ত টান বা চাপ তৈরি হলে এই সমস্যা হতে পারে।” উল্লেখ্য, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সেনেগাল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আইভারি কোস্টেরও জার্সি তৈরি করেছে পুমা। যদিও সেগুলি এখনও অক্ষত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন