Venezuela Earthquake

বিশ্বকাপের মাঝেই হৃদয় ভেঙে হাজার টুকরো! ভূমিকম্পে মৃত আর্জেন্টিনা তারকার স্ত্রী-সন্তানরা

জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অংশ। আর্জেন্টিনার ফুটবলারের জীবনকেও তছনছ করে দিয়েছে ভূমিকম্প।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৯, ২০২৬, ১৩:৫০

options
link
বিশ্বকাপের মাঝেই হৃদয় ভেঙে হাজার টুকরো! ভূমিকম্পে মৃত আর্জেন্টিনা তারকার স্ত্রী-সন্তানরা
ভূমিকম্পে মৃত আর্জেন্টিনা তারকার স্ত্রী-সন্তানরা। ছবি ইনস্টাগ্রাম।

প্রকৃতির রোষ রেহাই দেয় না কাউকে। একবার দাপট দেখাতে শুরু করলে নির্বিশেষে সব কেড়ে নেয়। আবারও তার সেই রুদ্র রূপের সাক্ষী থেকেছে ভেনেজুয়েলা। সে দেশে জোড়া ভূমিকম্পে (Venezuela Earthquake) তছনছ হয়ে গিয়েছে রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অংশ। আর্জেন্টিনার ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর জীবনকেও তছনছ করে দিয়েছে ভূমিকম্প। কয়েক দিন আগেও যাঁদের নিয়ে ছিল তাঁর পৃথিবী, সেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারাতে হয়েছে।

Advertisement

৭৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় তাঁদের নিথর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল মহলেও। ৩৮ বছর বয়সি লুকাস ত্রেহো ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলেন। গত বুধবার তিনি দলের সঙ্গে কারাকাসে ছিলেন। সেই সময় ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় উপকূলীয় অঞ্চলে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্রেহো জানতে পারেন, লা গুয়াইরার প্লায়া গ্রান্দেতে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দুর্গত এলাকায় ছুটে যান। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে নিজেও স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজে নামেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

৭৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় তাঁদের নিথর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল মহলেও।

উদ্ধার অভিযানের প্রথম দিকে সোশাল মিডিয়ায় ত্রেহো লেখেন, ‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনও খোঁজ নেই। সবাই ওদের জন্য প্রার্থনা করুন। কেউ যদি ওদের দেখে থাকেন, দয়া করে এই মেসেজ ছড়িয়ে দিন। ওরা তখন বাড়ির ভেতরে ছিল না, আমি এখনও এটাই বিশ্বাস করতে চাই।’ খবর পেয়ে আর্জেন্টিনা থেকে ভেনেজুয়েলায় ছুটে আসেন ত্রেহোর বাবা ও ভাই। দমকল, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। কিন্তু ঘণ্টা পেরিয়ে দিন, দিন পেরিয়ে আরও কয়েকটি রাত কেটে গেলেও পরিবারের সন্ধান মেলেনি।

Advertisement

অবশেষে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা, দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার নিরথ দেহ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ফুটবলার-সহ সমর্থকেরা সোশাল মিডিয়ায় সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আর্জেন্টিনার ফুটবলার এডসন তোর্তোলেরো লেখেন, ‘আজ আমার মন হাজার টুকরো হয়ে গিয়েছে। এত বড় কষ্ট কমিয়ে দেওয়ার মতো কোনও শব্দ নেই। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, এই অকল্পনীয় শোক সহ্য করার শক্তি যেন লুকাস পায়।’

খবর পেয়ে আর্জেন্টিনা থেকে ভেনেজুয়েলায় ছুটে আসেন ত্রেহোর বাবা ও ভাই। দমকল, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

রবিবার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরা-ও ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ক্লাব জানায়, ‘লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা, তাঁদের সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। কঠিন এই সময়ে লুকাস ও তাঁর পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” একজন ফুটবলারের এই ট্র্যাজেডি গোটা ফুটবল বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝেই চিরতরে হারিয়ে গেল লুকাস ত্রেহোর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান তিন প্রাণের মানুষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.