রিলায়েন্স অ্যাকাডেমির দায়িত্ব ছাড়ার পর বেঙ্গল সুপার লিগে কোচের দায়িত্ব নিয়েই সাফল্য। এই তো কিছুদিন আগেই হাওড়া-হুগলিকে চ্যাম্পিয়ন করলেন ‘কোচ’ জোসে ব্যারেটো। আর তারপরেই যোগ দিলেন শ্রাচীর ফুটবল অ্যাকাডেমির মাথা হয়ে। যাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও দুই প্রাক্তন ফুটবলার, আলভিটো ডি’কুনহা এবং সুলে মুসা। আলভিটোর দায়িত্বে সাউথ সিটির স্কুল সহ সেখানকার ফুটবল অ্যাকাডেমি আর মুসার দায়িত্বে দিল্লির যুব সংঘ ক্লাব। যে দলই এই মরশুমেই সেখানকার প্রিমিয়ার লিগে উঠল। সঙ্গে মেয়েদের দলও এবার থেকে খেলবে আইএডব্লুএল-টু-তে। সবার মাথায় অবশ্য ব্যারেটোর মস্তিষ্ক।
আরও পড়ুন:
মুম্বইয়ে রিলায়েন্স অ্যাকাডেমি ছাড়ার পিছনে ব্যারেটোর যুক্তি ছিল, অনেকদিন ধরেই জুনিয়র ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। কোচ হিসেবে সেখানে আর উত্তরণের কোনও জায়গাই ছিল না। ফলে ভীষণভাবেই চাইছিলেন ক্লাব কোচিংয়ে যুক্ত হতে। অপেক্ষায় ছিলেন, যদি কলকাতার আইএসএল খেলা ক্লাবগুলি থেকে কোনও ডাক আসে। এমনকী আই লিগের ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও হয়তো কোচিং করাতে রাজি ছিলেন। কিন্তু এই মরশুমে আইএসএল এবং আই লিগ শুরু নিয়ে যেভাবে অরাজকতা হয়েছে, তাতে কোনও দলই নতুন করে আর কোচিং স্টাফ পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটতে চায়নি। যখন কোনও স্তরের ক্লাব কোচিংয়েই যুক্ত হতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই প্রস্তাব আসে বেঙ্গল সুপার লিগে হাওড়া-হুগলি দলের কোচিং করানোর জন্য। বসেই যখন ছিলেন, ঠিক করলেন চ্যালেঞ্জটা নেবেন। আর শুরুর বছরেই সাফল্য। দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন ‘কোচ’ ব্যারেটো। তারপর?
বেঙ্গল সুপার লিগের সময় থেকেই শ্রাচী কর্তারা যোগাযোগ রাখছিলেন বুন্দেশলিগার দল ‘ইনগোলস্ট্যাডটের’ সঙ্গে। জার্মানিতে যে ক্লাবের সুনাম, জুনিয়র ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের জন্য। শ্রাচী কর্তার চাইছিলেন, জার্মান এই ক্লাবের পরামর্শ মেনে ভারতেও তাদের জুনিয়র ডেভপমেন্ট প্রোগ্রাম শুরু করতে। প্রতি বছর এখান থেকে জার্মান ক্লাবটিতে জুনিয়র ফুটবলাররা যাবে প্রশিক্ষণ নিতে। পাশাপাশি সেখান থেকেও টেকনিক্যাল স্টাফ আসবে শ্রাচীর অ্যাকাডেমিগুলিতে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে। এমত অবস্থায় শ্রাচী কর্তারা খুঁজছিলেন, এমন একজন প্রাক্তন ফুটবলার, যাঁর উপরে জুনিয়র ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের জন্য ভরসা করা যায়। বেঙ্গল সুপার লিগে ব্যারেটো তাঁর দলকে চ্যাম্পিয়ন করতেই শ্রাচী কর্তাদের মাথায় এসে যায় ব্যারেটোর নাম। কারণ, এই কাজটাই তো এতদিন নিষ্ঠার সঙ্গে করে এসেছেন রিলায়েন্সে। এখানে অবশ্য কোচিংয়ের দায়িত্ব নয়। জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অ্যাকাডেমিতে পুরো কোচিং শিডউল ঠিক করবেন ব্যারেটো। সেই অনুযায়ী কোচিং শিডিউল সাজাবেন আলভিটো আর মুসা।
যে কোনওদিন সকালে শ্রাচী দপ্তরে চলে যান, ঘড়ির সঙ্গে সময় মিলিয়ে শ্রাচী অফিসে ল্যাপটপ নিয়ে হাজির হয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ঘড়ির সঙ্গে সময় মিলিয়ে করছেন অফিস। কখনও আলোচনার জন্য সাউথ সিটি থেকে ডেকে আনছেন আলভিটোকে। ব্যারেটোকে যেমন পেয়ে যাবেন, শ্রাচী অফিসে, আলভিটোকে আবার সেরকম সাউথ সিটি ইন্টার ন্যাশনাল স্কুলে। ঘড়ির সময় ধরে অফিস করছেন। সঙ্গে সাউথ সিটির অ্যাকাডেমির প্র্যাকটিস করানো। তাহলে কি ক্লাব কোচিং করবেন না? শ্রাচী অফিসে ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকা ব্যারেটো বললেন, ‘শ্রাচীর সঙ্গে আমার খুব খোলামেলা চুক্তি। অ্যাকাডেমি নিয়ে ওরা যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, আমার ভাল লেগেছে। ফলে ওদের সঙ্গে আমি আছি। কিন্তু যে মুহূর্তে ক্লাব কোচিংয়ে সুযোগ পাব, শ্রাচী জানিয়েছে, আমাকে কোচিং করতে দেবে। তখন হয়তো দুটোই পাশাপাশি রাখব। আপাতত শ্রাচীর ফুটবল অ্যাকাডেমিটাকে প্রফেশনাল ভাবে দাঁড় করাতে হবে।’
শ্রাচী স্পোর্টসের ডিরেক্টর তমাল ঘোষাল বলছিলেন, ‘আমাদের ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য ব্যারেটোর মতো অভিজ্ঞ এবং বিদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসা একজনকেই খুঁজছিলাম। তারপর রিলায়েন্সের অ্যাকাডেমিতে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। জার্মান ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অ্যাকাডেমির ঠিকঠাক রূপায়ন করছে ব্যারেটো।’
একটা সময় একাধিক প্রাক্তন ফুটবলারকে চুক্তিবদ্ধ করে রেখেছিল শ্রাচী। সময়ের অভিজ্ঞতায় সেসব পরিকল্পনা এখন অতীত। দিল্লির যুব সংঘ সামলাবে মুসা। কলকাতায় সাউথ সিটির দায়িত্ব আলভিটো। অ্যাকাডেমির মাথায় ব্যারেটো। আর সম্মানের জন্য সবার উপরে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। ব্যাস। বাকি প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করা হয়েছে। ব্যারেটো বললেন, ‘সব রকম সাহায্য যখন পাচ্ছি, দেখা যাক শ্রাচীর ফুটবল অ্যাকাডেমিকে আধুনিক অ্যাকাডেমিতে রূপ দিতে পারি কি না।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কাটছে জট! জার্মানির সঙ্গে বৃহত্তম সাবমেরিন চুক্তির পথে দিল্লি, ভারত মহাসাগরে ভাঙবে ‘ড্রাগনে’র জাল?
-
দুষ্কৃতীদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ভাঙচুর পুলিশের গাড়ি! চাঞ্চল্য দুর্গাপুরে
-
রক্ত দেওয়ার পর ক্লান্ত লাগছে, কী হয় শরীরের অন্দরে, কীভাবে ফিট হবেন?
-
‘আমি গর্বিত দিমাগি নকশাল’, মোদির বার্তার পর পোস্ট কংগ্রেস নেতার, ‘শিক্ষা’ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
-
এবার বাসেই জোকা টু নৈহাটি! বড়মার সঙ্গে জুড়ে যাবে তারাপীঠও, বড় ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুনের