অঞ্জনের বিরুদ্ধে তোপ সত্যজিতের, শুক্রবার মোহনবাগানে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা

টালবাহানা বাড়লে মোহনবাগানে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০১৮, ১৭:৩৭

options
link
অঞ্জনের বিরুদ্ধে তোপ সত্যজিতের, শুক্রবার মোহনবাগানে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধিকি ধিকি করে জ্বলা আগুন বুধবার দাউ দাউ করে ওঠে মোহনবাগানে।

Advertisement

এতদিন শুধু পদত্যাগপত্র দাখিল হচ্ছিল। গতকাল সেই পদত্যাগীরা সরাসরি সাংবাদিকদের সামনে এসে হতাশার কথা তুলে ধরলেন। বুঝিয়ে দিলেন, কীভাবে দিনের পর দিন হেনস্তার শিকার হয়ে তাঁরা প্রিয় ক্লাব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। যার মধ্যে মুখ্য ভূমিকা নেন ফুটবল সচিব তথা মোহনবাগানের ঘরের ছেলে সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যিনি জানিয়ে দেন, সচিব অঞ্জন মিত্রর সম্পূর্ণ অসহযোগিতার কথা। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি, বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্লাবের পরিবেশ নষ্টের পেছনেও রয়েছেন বর্তমান সচিব। তবে অঞ্জন মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন, শীঘ্রই এ ব্যাপারে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকছেন। সেই সভা হবে আগামিকাল, শুক্রবার।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[হেরেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুল, জঘন্য রেফারিংয়ের অভিযোগ রোমার]

বুধবার সাংবাদিকদের সামনে মোহনবাগানের বিদ্রোহীদের শুধু সুর ছিল চড়া তাই নয়, উপস্থিত কিছু সভ্য-সমর্থকরাও ছিলেন তূরীয় মেজাজে। প্রত্যেকের নিশানায় ছিলেন একজন, অঞ্জন মিত্র। পদত্যাগী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রথমে বক্তব্য রাখতে ওঠেন সত্যজিৎ। ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তাঁর বলিষ্ঠ বক্তব্যে ফুটে ওঠে সচিবের অসহযোগিতার কথা। “আমি ১৯৮৬ সালে মোহনবাগানে সই করেছিলাম। তারপর কখনও এই ক্লাব থেকে সরে যাইনি। শুধু আমি নই, শৈলেন মান্না, চুনী গোস্বামী, সুব্রত ভট্টাচার্যরা ক্লাব ছাড়ার কথা ভাবতে পারত না। এখন এমন কী পরিস্থিতি দাঁড়াল যে প্রত্যেককে সরে যেতে হচ্ছে?” প্রশ্ন তোলার পর নিজেই উত্তর দিতে শুরু করেন সত্যজিৎ, “কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীকে ঠিক করার সময় যেমন আমরা অঞ্জনদার সঙ্গে কথা বলেছি। আবার দলগঠনের সময়ও তাঁর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখা হত। তাঁকে বাদ দিয়ে কখনও কোনও কাজ করিনি। অথচ তিনি আর্থিক সমস্যা কীভাবে মেটাবেন তার সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁকে নিয়ে বহুবার সভা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি আলোচনার টেবলে বসেছেন। তাতে উহ্য থেকেছে আর্থিক প্রসঙ্গ।” সত্যজিৎ এমনও বলেন, অঞ্জনদার অসুস্থতার কথা ভেবে ক্লাবের দুই গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগী সদস্য সৃঞ্জয় বোস ও দেবাশিস দত্ত তাঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য নিউটাউনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি আর্থিক ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছেন।

Advertisement

[ওয়ানডে ব়্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান খোয়াল টিম ইন্ডিয়া, নজির ইংল্যান্ডের]

পদত্যাগ করেছিলেন ১৪ জন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। যাঁদের মধ্যে সভাপতি টুটু বোস, সহ-সচিব সৃঞ্জয় বোস ও অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত আগেই সরে দাঁড়ান। গতকাল সরে দাঁড়ান তন্ময় চট্টোপাধ্যায়। মহেশ টেকরিওয়াল ও অসিত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সুর ছিল একইরকম। তাঁরা বলেন, “হাওড়ায় থাকি। সেখানে ঠাসা মোহনবাগান সমর্থক। প্রত্যেকে এসে আমাদের কাছে জানতে চাইছে, ক্লাবে এতদিন যে আছি সেটা কি স্রেফ গদি বাঁচানোর জন্য? তাই সরে দাঁড়ানো ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।” আবেগপ্রবণ বক্তব্য রাখেন একদা সচিবের ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় ঘোষ, “হেনরির সই মনে করিয়ে দিয়েছিল সত্তর দশককে। যেভাবে হেনরির মোবাইলের সিম পরিবর্তন করে দলে নেওয়া হয়েছে তা অনেকে ভাবতেই পারবে না। অথচ এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, হেনরি বা ডিকাকে আমরা ধরে রাখতে পারব তো? কিন্তু ধরে রাখার জন্য টাকা কোথায়?”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.