Narendrapur Ramkrishna Mission

‘ব্রাজিলের ম্যাচটা চালাবে’, মৃত্যুর আগের মুহূর্তে বাবার কাছে শেষ আবদার রামকৃষ্ণ মিশন ছাত্রের

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রমৃত্যুতে চলছে তুমুল বিতর্ক। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১৪:৫৩

options
link
‘ব্রাজিলের ম্যাচটা চালাবে’, মৃত্যুর আগের মুহূর্তে বাবার কাছে শেষ আবদার রামকৃষ্ণ মিশন ছাত্রের
দীপ্তাংশু মাহাত আবদার করেছিল, ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচের রিপিট টেলিকাস্ট চালিয়ে দেওয়ার জন্য।

কয়েক মুহূর্ত পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও সে জানিয়েছিল, প্রিয় দলের খেলাটা আরেকবার চালিয়ে দেওয়া হোক। মন ভেঙে দেওয়া এই তথ্য উঠে এল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের (Narendrapur Ramkrishna Mission) ছাত্রমৃত্যুতে। জানা গিয়েছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দীপ্তাংশু মাহাত আবদার করেছিল, ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচের রিপিট টেলিকাস্ট চালিয়ে দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ব্রাজিলের জয় দেখা হয়নি তার।

Advertisement

গত সোমবার বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২তে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল এবং জাপান। তার পরেরদিন সকালেই দীপ্তাংশুর মর্মান্তিক পরিণতি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফ্লাস্কে রাখা খুব গরম চা খেয়ে ফেলে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। কিছুক্ষণ পরে শরীরের ভিতরের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সে ওয়ার্ডেনের কাছে যায়। তিনি অন্য কাউকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। কিন্তু যাঁকে জানানো হয়, তিনি বিষয়টিতে অবহেলা করেছেন বলে সহপাঠীদের দাবি। এরপর দীপ্তাংশু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে। তারও কিছুক্ষণ পরে এক চিকিৎসককে দেখানো হয় দীপ্তাংশুকে। তিনি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর তার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের লোক এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Advertisement

দীপ্তাংশুর এমন পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার বন্ধুরা। তাদের কথায়, ব্রাজিলের ভক্ত ছিল দীপ্তাংশু। কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরে দিদির সঙ্গে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার পরিকল্পনাও করেছিল সে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হল না। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখনও দীপ্তাংশু বাবাকে বলে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের রিপিট টেলিকাস্ট চালিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই ম্যাচ দীপ্তাংশু কতটা দেখতে পেরেছিল, জানা নেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরলোকে পাড়ি দেয় সে।

Advertisement

তিন বছর আগে মাকে হারিয়েছিল মাহাত পরিবার। এবার চলে গেল একমাত্র ছেলে। মধ্যমগ্রামের নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন ছাত্র দীপ্তাংশুর এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগলেও বাড়ি ফিরে দিদির সঙ্গে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ছিল সে। সেই অপেক্ষা আর পূরণ হল না। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.