Brij Bhushan Singh

অভিযোগ প্রমাণিত নয়, কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্তা মামলায় বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ

ছয় মহিলা কুস্তিগিরের দায়ের করা যৌন হেনস্তার মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ও বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং। সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত এই রায় দিয়েছে।

সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১৭:৪২

options
link
অভিযোগ প্রমাণিত নয়, কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্তা মামলায় বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ
ব্রিজভূষণ শরণ সিং। ফাইল ছবি।

ছয় মহিলা কুস্তিগিরের দায়ের করা যৌন হেনস্তার মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ও বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং। একই রায়ে খালাস পেয়েছেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমরও। সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার জানান, মামলায় পেশ করা প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তাই দু’জনকেই বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

২০২৩ সালে ভিনেশ ফোগট-সহ দেশের একাধিক মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম ইস্যুতেও পরিণত হয়। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তদন্ত শেষে প্রায় ১,৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়। সেখানে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি এবং ৫০৬(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। সহ-অভিযুক্ত করা হয় বিনোদ তোমরকেও। 

Advertisement

মামলার শুনানিতে অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিরদের পাশাপাশি তদন্তকারী অফিসার, বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) সদস্য এবং কুস্তি ফেডারেশনের একাধিক কর্তা-সহ ৩০ জনেরও বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর গত ২ জুলাই আদালত রায় সংরক্ষণ করে। পরে ৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়। সোমবার রায়ে আদালত জানায়, মামলায় যে প্রমাণ ও সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তাই ব্রিজভূষণ ও বিনোদ তোমর, দু’জনকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই স্বস্তির সুরে ব্রিজভূষণ বলেন, “আদালত আমাকে খালাস দিয়েছে। আমি সেদিন বলেছিলাম, দোষী প্রমাণিত হলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ খালাস পেয়ে আমি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”

Advertisement

এই মামলাকে ঘিরে ২০২৩ সালে রাজধানীর যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন দেশের একাধিক কুস্তিগির। ভিনেশ ফোগট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়ার মতো অলিম্পিক পদকজয়ীরা ব্রিজভূষণের গ্রেপ্তার এবং কুস্তি ফেডারেশন থেকে তাঁর অপসারণের দাবি তুলেছিলেন। সেই আন্দোলন কেবল ক্রীড়া প্রশাসন নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেয়। তদন্ত ও দীর্ঘ বিচারপর্বের শেষে সোমবার আদালতের রায়ে সেই বহুচর্চিত মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ব্রিজভূষণ শরণ সিং ও বিনোদ তোমর।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.