এবারের ‘মোহনবাগান রত্ন’ কিংবদন্তি শ্যাম থাপা, ‘সুভাষ ভৌমিক’ অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন কিয়ান নাসিরি

জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হবে মোহনবাগানের প্রাক্তন গোলকিপার বলাই দে'কে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২২, ১৯:৪৬

options
link
এবারের ‘মোহনবাগান রত্ন’ কিংবদন্তি শ্যাম থাপা, ‘সুভাষ ভৌমিক’ অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন কিয়ান নাসিরি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইস্টবেঙ্গল থেকে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানে চলে এসেছিলেন। টানা সাত বছর খেলেছেন সবুজ-মেরুন জার্সি পিঠে চাপিয়ে। ১৯৮২ সালে সবুজ-মেরুনের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।  তিনি শ্যাম থাপা (Shyam Thapa)। ব্যাকভলির জন্য যিনি ময়দানে বিখ্যাত। সেই শ্যাম থাপাকে এবারের মোহনবাগান দিবসে  ‘মোহনবাগান রত্ন’ (Mohun Bagan Ratna) সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। 

Advertisement

ফুটবল সম্রাট পেলের ক্লাব কসমসের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন শ্যাম থাপা। সেই মহাম্যাচে গোলও ছিল তাঁর। কার্লোস আলবার্তো তোরেসের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল কসমস। শ্যাম থাপা সমতা ফিরিয়েছিলেন মোহনবাগানের হয়ে।  এদিন সেই ম্যাচের স্মৃতিতে ডুব দিয়ে শ্যাম থাপা বলছিলেন, ”পেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে, পেলের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, পেলের দলের বিরুদ্ধে গোল করতে পেরেছি, এগুলো মোহনবাগানে (Mohun Bagan) খেলার ফলেই সম্ভব হয়েছিল। পেলের দলের বিরুদ্ধে গোল করায় আমি বিখ্যাত হয়েছি। মোহনবাগান রত্ন বড় সম্মান। এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। সম্মান পেয়ে আমার আজ খুব ভাল লাগছে।”

Advertisement

ডার্বি ম্যাচে শ্যাম থাপার গোল নিয়ে এখনও রীতিমতো চর্চা হয়। তুফান ওঠে চায়ের পেয়ালায়। ১৯৭৮ সালের ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের জালে বল জড়িয়েছিলেন শ্যাম থাপা। সেই গোল প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে কিংবদন্তি ফুটবলার বলছিলেন, ”১৯৭৮ সালের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ব্যাকভলিতে গোল করেছিলাম। মোহনবাগানের হয়ে ওই গোলটা আমার কাছে স্মরণীয়।” 

Advertisement

২৯ জুলাই মোহনবাগান দিবস। ১৯১১ সালের এই দিনে ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। এই কারণে ২০০১ সাল থেকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ প্রদান করা হচ্ছে। 

এবারের মোহনবাগান দিবসে একাধিক পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগের পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে কোনও প্রথিতযশার নামে। বছরের সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। সেই পুরস্কার এবার পাচ্ছেন বাপি শেখ। তিনবছর ধরে তিনি ক্লাবে রয়েছেন।  

[আরও পড়ুন: স্মৃতি ইরানি ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উপরে আস্থা মোদির, দেওযা হল বাড়তি মন্ত্রকের দায়িত্ব]

সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণের পরেই মোহনবাগানের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁর নামে সেরা ফরোয়ার্ডের পুরস্কার দেওয়া হবে। এবার সেরা ফরোয়ার্ড কিয়ান নাসিরি। 

বছরের সেরা ক্রিকেটারকে দেওয়া হবে অরুণ লাল অ্যাওয়ার্ড। এবার পাচ্ছেন প্রিনান দত্ত। তিনিই সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ক্লাবের হয়ে।  

বছরের সেরা অফিসিয়াল হিসেবে অঞ্জন মিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন গোকুলাম কেরলের ভিসি প্রবীণ। গোকুলাম কেরল টানা দু’ বার আই লিগ জেতার নজির গড়েছে। 

বছরের সেরা ফুটবলার লিস্টন কোলাসোকে দেওয়া হচ্ছে শিবদাস ভাদুড়ি অ্যাওয়ার্ড। জীবনকৃতি সম্মান পাচ্ছেন সবুজ-মেরুনের প্রাক্তন গোলকিপার বলাই দে। এবার থেকে দেওয়া হচ্ছে নতুন একটি পুরস্কার। আর তা হল সেরা সাংবাদিকের। এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে আজকাল সংবাদপত্রের সম্পাদক অশোক দাশগুপ্তকে। 

এদিকে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন আদ্যন্ত মোহনবাগান সমর্থক অনির্বাণ নন্দী। মোহনবাগানের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিডনির নামী চিকিৎসক ডা. প্রতীম সেনগুপ্তকে দেখানো হবে মোহনবাগান সমর্থক অনির্বাণকে। প্রতীম সেনগুপ্তর কাছ থেকেই জেনে নেওয়া হবে অনির্বাণের চিকিৎসার জন্য কী করণীয়। 

২৯ জুলাই দুপুর ২ টো নাগাদ প্রাক্তন ফুটবলারদের ম্যাচ হবে। সংগীত পরিবেশন করবেন পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রবিন্দু। সাড়ে ছ’টা থেকে দেওয়া হবে পুরস্কার। 

[আরও পড়ুন: সবার অলক্ষ্যে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ‘স্বপ্নের নায়ক’, ধোনির জন্মদিনে স্মৃতিচারণায় ‘সুপারফ্যান’]

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.