CJP Protest

ছাত্র আন্দোলনে বিশ্বকাপের ছোঁয়া! ‘ককরোচ’ বিক্ষোভের ভাষা এবার হালান্ডদের ‘ভাইকিং রো’

এবার ছাত্র আন্দোলনে মিলে গেল বিশ্বকাপ। হালান্ডদের ‘ভাইকিং রো’ দেখা গেল ভারতের ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১৮:০৯

options
link
ছাত্র আন্দোলনে বিশ্বকাপের ছোঁয়া! ‘ককরোচ’ বিক্ষোভের ভাষা এবার হালান্ডদের ‘ভাইকিং রো’
'ককরোচ' বিক্ষোভের ভাষা এবার হালান্ডদের 'ভাইকিং রো'।

ফুটবল ভক্তদের জোট বেঁধে বিশেষ সেলিব্রেশন নতুন কিছু নয়। আইসল্যান্ডের ভাইকিং থান্ডার ক্ল্যাপ গোটা বিশ্বে পরিচিত। কমলা জার্সি পরে রাস্তাজুড়ে ডাচদের ‘লেফট রাইট’ সেলিব্রেশন কিংবা স্কটিশদের ‘নো স্কটল্যান্ড, নো পার্টি’ নিয়েও অনেকে জানেন। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আর্লিং হালান্ডরা মেতেছিলেন ড্রাম বাজিয়ে নৌকো বাওয়ার সেলিব্রেশনে। এবার ছাত্র আন্দোলনে মিলে গেল বিশ্বকাপ। হালান্ডদের ‘ভাইকিং রো’ দেখা গেল ভারতের ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে।

Advertisement

মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ‘ভাইকিং রো’-এর আদলে প্রতিবাদ জানান। তবে নতুন মোড়কে। এমনিতে এই নিয়মে ‘রো’ বলে স্লোগান তোলা হয়। আর এখানে আন্দোলনকারীরা একসঙ্গে উচ্চারণ করলেন ‘রেজাইন’। তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও তুললেন।

Advertisement

এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ে সমর্থকদের এই সেলিব্রেশন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সমর্থকদের সঙ্গে একাধিক জয়ের পর ফুটবলার হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডও ‘ভাইকিং রো’-তে অংশ নেন। যেখানে দলবদ্ধ ভাবে সবাই পা সামনে রেখে মাটিতে বসেন। একজন ড্রামবাদক ছন্দ ঠিক করে দেন। দু’বার ড্রাম বাজানোর পর সমস্বরে বলতে হয় ‘রো’, তখন সকলে মিলে নৌকো বাওয়ার মতো করে হাত ও শরীর পিছন দিকে টানতে হয়। নরওয়ের ইতিহাসকে স্মরণ করেই হালান্ডদের এই সেলিব্রেশন। ‘ভাইকিং যুগে’ বড় জাহাজ নিয়ে নরওয়েবাসী বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিত। আজকের নরওয়ে তৈরিতে ৮০০ থেকে ১৫০০ সালের মধ্যে সেই ভাইকিংদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেই ‘ভাইকিং রো’-এর আবেগ যেন নতুন রূপে ফিরে এল।

Advertisement

সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বর্ষার মধ্যেও ছাত্রছাত্রীরা ড্রাম বাজিয়ে ‘ভাইকিং রো’-এর ছন্দে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যা নিয়ে তুঙ্গে আলোচনা। ২০২৬ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বলে রাখা দরকার, গত ৩ মে নিট-ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। পরীক্ষার কয়েকদিন পরেই সন্দেহ দানা বাঁধে, রাজস্থানে ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বাতিল করে দেওয়া হয় পরীক্ষা। ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বর্তমানে বিহার, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গোয়া, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। পথে নেমে প্রতিবাদ করছে ছাত্রসমাজ। নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নিয়ে দু’মাস পরে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। এরই মধ্যে পাটনার একটি ঘটনাও ভাইরাল হয়েছে। তীব্র গরমে এক ছাত্র মজা করে পুলিশের কাছে জলকামান চালানোর অনুরোধ করেন। পরে জলকামান চালু হতেই ছত্রভঙ্গ না হয়ে বিক্ষোভকারীরা নাচতে শুরু করেন। সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই ঘটনাটিকে ‘পিক জেন জেড বিহেভিয়ার’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহৃত হালান্ডদের ‘ভাইকিং রো’ নিয়ে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.