চিনের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিলেন বিজেন্দর

সীমান্তের জবাব বক্সিংয়ের রিংয়ে...

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৭, ০৩:২১

options
link
চিনের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিলেন বিজেন্দর

স্টাফ রিপোর্টার: মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তেরঙ্গা পতাকা গায়ে জড়িয়ে নিলেন বিজেন্দর। বক্সিং রিং থেকে নেমেই ছুটে গেলেন বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের কাছে। ততক্ষণে বিজেন্দরকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন বিগ বি। পাশেই দাঁড়ানো রামদেবও ততক্ষণে জড়িয়ে ধরেছেন তাঁকে। মুম্বইয়ের প্রতিটি দর্শকের চিৎকারে ফেটে পড়ছে হল। চিনের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়ার উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে হাজার হাজার বিজেন্দর-সমর্থক। টানা নবম লড়াইয়ে তিনি অপরাজিত রইলেন। শুধু তাই নয়, এদিন চিনের প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকর মাইমাইতিয়ালিকে হারিয়ে তুলে নিলেন দু-দুটি খেতাব। এক, ডব্লুবিও এশিয়া সুপার মিডল ওয়েট। অপরটি, ডব্লুবিও ওরিয়েন্টাল সুপার মিডল ওয়েট।

Advertisement

হাসপাতালের উন্নয়নে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান শচীনের ]

Advertisement

শনিবারের লড়াইটা ছিল একটু অন্যরকম। চিনের প্রতিদ্বন্দ্বীর বয়স হল ২৩। অভিজ্ঞতার নিরিখে বিজেন্দরের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন মাইমাইতিয়ালি। তাই লড়াইয়ের শুরুতেই বক্সিং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, এই লড়াইও সহজেই জিতবেন বিজেন্দর। বাস্তবে অবশ্য তা ঘটল না। যথেষ্ট লড়াই করে বিজেন্দরকে জিততে হল। একটা সময় লড়াইটা এতটাই তুল্যমূল্য হচ্ছিল যে জোর দিয়ে বলা যাচ্ছিল না যে বিজেন্দর জিতবেনই। শেষপর্যন্ত জিতলেন। ৯৬-৯৩, ৯৫-৯৪ ও ৯৫-৯৪ পয়েন্টে। আগের আট লড়াইয়ে এভাবে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীতার সামনে পড়তে হয়নি। অনেক প্রতিপক্ষকে অনায়াসে নকআউট করে দিয়েছিলেন তিনি। অথচ শনিবার বিজেন্দরকে প্রতিটি মুহূর্তে শক্ত চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দিয়েছেন চাইনিজ প্রতিপক্ষ। চতুর্থ রাউন্ড পর্যন্ত বিজেন্দর সামান্য এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পঞ্চম রাউন্ড থেকেই মাইমাইতিয়ালি প্রবল লড়াইয়ে ফিরে আসেন। সেই সময় বেশ কয়েকবার দেখা যায়, বিজেন্দরকে পিছু হটতে। এক সময় তিনি মাটিতে পড়েও যান। তবে এটাও ঠিক লড়াইয়ের নিয়মাবলীকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চেয়েছিলেন চিনের বক্সারটি। কিন্তু তাঁর বেশ কয়েকটা পাঞ্চ ছিল বক্সিংয়ের নিয়ম বিরোধী। তাই রেফারি তাঁকে সতর্ক করে দেন। দর্শকাসন থেক ততক্ষণে ‘চিটার, চিটার’ চিৎকার শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে দর্শকদের প্রবল সমর্থন, অন্যদিকে ফিরে আসার লড়াইয়ে নিজেক সঁপে দেন বিজেন্দর। ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ তিনি হাতের মুঠোয় নিতে শুরু করেন। তবে কোনও সময়ের জন্য মনে হয়নি বিজেন্দর এগিয়ে গিয়েছেন। তখন মনে হচ্ছিল মাইমাইতিয়ালি না জিতে বেরিয়ে যান। কিন্তু রেফারি সর্বসম্মতিক্রমে দশম রাউন্ডের লড়াইয়ের পর জানিয়ে দেন, আবার জিতেছেন বিজেন্দর।

Advertisement

জানেন, কেন জাতীয় টেনিস সংস্থাকে একহাত নিলেন বোপন্না? ]

ভারতীয় সীমান্তে চিনের অনুপ্রবেশ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দু’দেশের মধ্যে চলছে চাপান-উতোর। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক যথারীতি এই ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে।  শনিবার চিনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে এলেন বিজেন্দর। বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে দেশের সম্মানরক্ষা হল বড় কথা। আসলে এই লড়াইয়ে জিতে বিজেন্দর একদিকে যেমন চাইনিজদের সতর্কবার্তা পাঠালেন, অন্যদিকে মাইমাইতিয়ালির কাছ থেকে কেড়ে নিলেন ওরিয়েন্টাল সুপার মিডল ওয়েট খেতাব। তাই লড়াইয়ের পর বিজেন্দর বলেন, “আসলে আমি চাইছিলাম জুলপিকারের কাছ থেকে এই খেতাবটা কেড়ে নিতে। এই খেতাব কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা বার্তা আমি পাঠাতে পারলাম যে, ভারত-চিন সীমান্ত যাতে শান্তির সহাবস্থান ঘটে। এটাই কিন্তু আমার কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।”

ভাইরাল হল বান্ধবীর সঙ্গে রোনাল্ডোর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ]

তবে অলিম্পিক ব্রোঞ্জ বিজয়ী বিজেন্দর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুলপিকরের। “চিনের উৎপাদিত কোনও বস্তু মোটেই বেশিদিন টেকে না। তবে জুলপিকরের লড়াই অবশ্যই দীর্ঘদিন মনে রাখব। কোনও সন্দেহ নেই তার লড়াই দেখে আমি বিস্মিত। দারুণ লড়াই করেছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.