ইন্দ্রজিত্ দাস: অষ্টাদশ শতকের একেবারে প্রথমদিকের ঘটনা৷ বর্ধমান শহরের নীলপুর গ্রামে বসবাস করতেন ভরতচন্দ্র সরকার৷ তিনি ছিলেন নিঃসন্তান৷ সন্তানলাভের আশায় যাগযজ্ঞ, পূজা-আদি অনেক কিছুই করলেন৷ অবশেষে আত্মীয়স্বজনদের সবকিছু দান করে কাশীবাসের সংকল্প করলেন৷ কাশী যাওয়ার আগে বীরভূমের সুরুল গ্রামে এলেন গুরুদেবের সঙ্গে দেখা করতে৷ গুরুদেব শিষ্যের মনকষ্ট বুঝতে পেরে কিছুদিন তাঁদের সুরুলে থেকে যেতে বললেন৷ কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের পুত্রসন্তান হল৷ পুত্রের নাম রাখলেন কৃষ্ণহরি৷ সরকার বংশের বসবাস নতুন করে শুরু হল বীরভূমের এই সুরুল গ্রামে৷
কৃষ্ণহরি সরকার অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি মাটির ঠাকুরদালান গড়ে দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন৷ শুরু হল সুরুল সরকারবাড়ির দুর্গোৎসব৷ যা আজ শুধু সুরুল গ্রামের নয়, সারা বীরভূমের গৌরব৷ আজও দুর্গাপুজোর সময় সরকারবাড়ির সামনে বিরাট মেলা বসে৷ সরকারবাড়ির নাটমন্দিরে পুজোর তিনদিন ধরে চলে যাত্রাপালা৷
কৃষ্ণহরি সরকারের পৌত্র শ্রীনিবাস সরকার পরে মাটির ঠাকুরদালান ভেঙে প্রাসাদসম অট্টালিকার সঙ্গে খিলান যুক্ত চকমিলান পাকা ঠাকুরদালান তৈরি করেন৷ এইসময় সরকার পরিবার উন্নতির শিখরে পৌঁছায়৷ ফরাসি ও ইংরেজ কুঠিয়ালদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন৷ নীলচাষ ছাড়াও চিনি ও কাপড় তৈরি ছিল পরিবারের মূল ব্যবসা৷

বেলজিয়াম থেকে নানা রঙের ঝাড়বাতি নিয়ে আসা হয়েছিল, আজও দুর্গাপুজোর সময় রেড়ির তেলে জ্বলা ঝাড়বাতিগুলোকে দেখা যায় ঠাকুরদালান, নাটমন্দিরে৷ আধুনিক বিজলিবাতির সঙ্গে তেলের ঝাড়বাতির সহাবস্থান রাতের ঠাকুরদালানকে আরও মোহময় করে তোলে৷
রথের দিন বাড়ির ঠাকুরদালানে কাঠামো পুজো করে শুরু হয় মূর্তি গড়া৷ একই কাঠামোতে প্রতি বছর মাটি লাগিয়ে মূর্তি গড়েন শিল্পী৷ ছাঁচে নয়, শিল্পী নিজে হাতে গড়েন মায়ের মুখ৷ মায়ের বোধন হয় ষষ্ঠীতে৷ সপ্তমীর সকালে পালকি করে নবপত্রিকা বড় নতুন পুকুরে স্নানে নিয়ে যাওয়া হয়৷ স্নান থেকে ফিরে আসার পর হয় মায়ের চক্ষুদান৷ লুচি, তরকারি, সুজি, কদমা, মিহিদানা, বোঁদে, রসগোল্লা, পান্তুয়া, নারকেল নাড়ু থেকে শুরু করে নানা রকমের ফল মাকে অন্নভোগ হিসেবে দেওয়া হয় না৷ পুজোর তিনদিনই হয় বলি৷ সপ্তমীতে চালকুমড়ো, অষ্টমীতে পাঁঠা ও নবমীতে চালকুমড়ো ও আঁখ৷
আজও দুর্গাপুজোর সময় ঠাকুরদালান, নাটমন্দির ভরে ওঠে দেশ ও বিদেশের পর্যটকে৷ হাওড়া থেকে গণদেবতা এক্সপ্রেস বা শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসে শান্তিনিকেতন৷ সেখান থেকে টোটো, রিকশা বা গাড়িতেই পৌঁছে যাওয়া যায় সুরুল সরকারবাড়ি৷ দশমীর দিন সকালে হয় অপরাজিতা পুজো৷ তারপর মশাল জ্বালিয়ে দুর্গামূর্তি নিয়ে যাওয়া হয় কালীসায়রে৷ ঢাকের সঙ্গে ফাটতে থাকে আতশবাজি৷ কালীসায়রে রাজকীয় মর্যাদায় বিসর্জিত হয় মায়ের মূর্তি৷
সর্বশেষ খবর
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!