সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৮২ বিশ্বকাপের ছবিটা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে ফরাসি মিডিয়া৷ কী হয়েছিল সেবার?
৮২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বাতিস্তঁকে ঘুঁষি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন জার্মান গোলকিপার শুমাখার৷ রেফারি কার্ড দেখাননি, ফ্রি-কিকও না৷ বাতিস্তঁ কোমায় চলে গিয়েছিলেন৷ শিরদাঁড়ায় চোট পেয়েছিলেন৷ তিনটি দাঁতও ভেঙেছিল তাঁর৷ তার থেকেও খারাপ ব্যাপার হল, ম্যাচটা হেরেছিল ফ্রান্স৷ তার পর থেকে ফ্রান্স এবং জার্মানি মুখোমুখি হলেই ওই বাতিস্তঁর অজ্ঞান হয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ছবি ছাপে সব ফরাসি-মিডিয়া৷ ‘বদলার তেষ্টা’ গত ৩৪ বছরে মেটেনি ফরাসিদের!
পুরনো কথাগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সামনে এনে ফরাসিদের তাতানোর কাজ করছে ফরাসি মিডিয়া৷ কিন্তু, ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ অতটা আবেগে ভেসে যাচ্ছেন না৷ বলছেন, “ইতিহাস বদলায় না৷ বরং নতুন অধ্যায় লিখতে হয়৷ এখনকার এই পাতাটা এখনও ফাঁকা আছে৷ সেটা কীভাবে ভরাট করবে, খেলোয়াড়দের উপরই নির্ভর করছে৷” ফরাসিরা ঘরের মাঠে যতই দারুণ ফর্ম নিয়ে নামুন, লো পাত্তা দিচ্ছেন না৷ বলছেন, “ধুর, দু’বছর আগে বিশ্বকাপেও তো আমরা এই অবস্থায় ঘরের দলের (ব্রাজিল) বিরুদ্ধে নেমেছিলাম৷ কী হয়েছিল সবাই জানে৷” এটা যে চাপা হুমকি, সেটা স্পষ্ট৷
তবে জোয়াকিম লো’র রাতের ঘুম উড়েছে অন্য কারণে৷ কোচ লো’র অন্যতম ভরসা মুলার৷ এটা জার্মান শিবিরের অন্যরাও এক কথায় স্বীকার করেন৷ সেই মুলার ফর্মে নেই৷ তবে আরও একটা বিষয় ভাবাচ্ছে কোচকে৷ চোট ও কার্ড সমস্যা৷ জার্মানি শিবির আপাতত মিনি হাসপাতালে পরিণত হয়েছে৷ মারিও গোমেজ সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না, এমন খবরে আগেই শিলমোহর বসিয়েছিলেন লো৷ হোল্ডিং মিডফিল্ডার স্যামি খেদেইরাও খেলতে পারবেন না৷ বাদ পড়ার তালিকার তিন নম্বরে রয়েছেন বাস্তিয়ান সোয়াইনস্টাইগার৷ কার্ড সমস্যায় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ম্যাট হামেলস৷ খেদেইরার বদলে এমরে কানকে খেলানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে লো’র৷ ফরোয়ার্ড লাইন নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন৷ তাই দল সাজাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন কোচ৷
এদিকে, জার্মানির বিরুদ্ধে ইউরো সেমিফাইনালে নামার আগে চাপ কাটাতে পোকার খেলে কাটিয়েছেন ফুটবলাররা৷ কোচ দেশঁ বলছিলেন, “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, ইচ্ছা আছে, যে কারণে আজ আমরা এই জায়গায়৷ জার্মানি প্রতিপক্ষর উপর চাপ দিয়ে খেলতে অভ্যস্ত৷ বলের দখল বেশি রাখে৷ তার মানে এই নয় যে, আমরা সারাক্ষণ রক্ষণ করে যাব৷ আমাদের নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলতে হবে৷ গোটা মাঠ আমাদের হয়ে চেঁচাবে৷ এটারও দরকার৷ ম্যাচটা গায়ে গায়ে হবে, এটা নিশ্চিত৷”
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫৮-র বিশ্বকাপের পর কোনও বড় টুর্নামেন্টে জার্মানিকে হারাতে পারেনি ফ্রান্স৷ যদিও গত নভেম্বরে এই জার্মানিকেই ঘরের মাঠে দু’গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স৷ দেশঁ অবশ্য বললেন, “ওটা প্রদর্শনী ম্যাচ ছিল, ভুলে যাবেন না৷ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জার্মানি অন্যরকম৷” ফরাসি দলে সামান্য চোট জিরুর৷ আগের ম্যাচে গোল পেয়েছেন৷ আর আছেন গ্রিজমান৷ দু’জনেই ফিট হয়ে মাঠে নামলে জার্মানির মাথাব্যথা৷
সর্বশেষ খবর
-
‘নিজে সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছেন’, পুজো পাস দুর্নীতিতে মমতার নাম জড়াতেই খোঁচা দিলীপের
-
‘ভারতীয়রা প্রাণ কাড়ে না, জীবন বাঁচায়’, স্মিতকে কুর্নিশ মোদির, ট্রাম্প-শাহবাজকে নিশানা?
-
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের লক্ষ্য শুধু… মহারণের সূচি ঘোষণা হতেই বাবরদের চরম কটাক্ষ পার্থিবের
-
‘জীবনের সেরা ম্যাচ খেলো’, ব্রাজিল যুদ্ধের আগে মনবীরদের বার্তা বিশ্বকাপে খেলা বিকাশের
-
কপালের চন্দন পরিষ্কার থেকে হাতে আলতো চুমু, ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে শুভশ্রীর প্রতি যত্নশীল দেব!