সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। দুই দাদা ছোটখাটো ব্যবসা করেন। অভাব দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁর প্রতিভাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় ফার্স্টক্লাস ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। ভালবেসেই উলুবেড়িয়ার রাণা মণ্ডলকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের ছয় মাসেই মধ্যেই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল মিতা মণ্ডলের মৃতদেহ।
শ্বশুরবাড়ির দাবি ছিল, আত্মহত্যা করেছেন মিতা। কিন্তু ফেসবুকে তাঁর বন্ধুদের পোস্ট করা ছবি বলছে অন্য কথা। যাতে মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। নাকে, কপালে, ঘাড়ে, গলার কাছে গভীর ক্ষত দেখা গিয়েছে উলুবেড়িয়ার গৃহবধূর।
মঙ্গলবার ভোরে মিতার বাপের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়, মিতা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে তাঁর মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিতার শরীরে আঘাত দেখে সন্দেহ হওয়াতেই পুলিশে অভিযোগ জানান তাঁর কাকা। মিতার বন্ধুরা প্রশ্ন তুলেছেন, বি এড করতে চেয়েছিলেন মেধাবী ছাত্রী। তাহলে হঠাৎ কেন নিজেকে শেষ করে দেবেন তিনি? মিতার বেডরুমের খাট বেশ উঁচু, সেই তুলনায় ছাদ অনেকটাই নিচু। তাহলে কীভাবে তিনি ফাঁস লাগালেন? রাণার বাড়ি থেকে তাঁর কর্মস্থানের দূরত্ব কয়েক মিনিটের। তাহলে মিতাকে সেখানে নিয়ে যেতে দেড় ঘণ্টা লাগলো কেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তৎপর পুলিশও।
আপাতত পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে অভিযুক্ত রাণা মণ্ডল এবং তার বাবা দ্বিজেন্দ্রনাথ মণ্ডল। মা কল্পনা মণ্ডল ও ভাই রাহুল এখনও নিখোঁজ। ইতিমধ্যেই সঠিক তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন মিতার বাপেরবাড়ির লোকজন। মিতার বাপের বাড়িতে যান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁর প্রাক্তন সহপাঠীরাও। যাদবপুরের এই মেধাবী প্রাক্তনীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে #JusticeForMita।
সর্বশেষ খবর
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের
-
নিজেই নিজেকে গুনবেন! রাজ্যে স্ব-গণনায় বিশেষ পোর্টাল খুলে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
-
বাম আমলে ‘খুন’, প্রতিজ্ঞা পূরণ করে ৩৪ বছর পর বিজেপিকর্মী বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন ছেলেরা
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার হারে অভিযান শুরু অধিনায়ক শ্রেয়সের, বৈভবকে না খেলিয়েই ভুগল ভারত!