পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সনাতন জৌলুস না হারিয়েও স্বমহিমায় রয়ে গিয়েছে বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য৷ এমনই কিছু বাছাই করা প্রাচীন বাড়ির পুজোর সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ প্রথম প্রতিবেদনে পড়ুন খড়দহের গোস্বামীপাড়ার নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য ‘মেজবাটি’র পুজো৷
শুভময় মণ্ডল: ৪৮৬ বছর আগে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর হাত ধরে এই পুজোর শুরু৷
বিগত পাঁচ শতকে জৌলুসে অল্প মরচে ধরলেও খড়দহের গোস্বামীপাড়ার ‘মেজবাটি’র শারদোৎসবে গরিমা এখনও কিন্তু অমলিন৷ ধারে-ভারে আজও একইরকম বাংলার প্রাচীন, ঐতিহ্যপূর্ণ এই বাড়ির পুজো৷

এই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে উল্টো রথের দিন থেকেই৷ মা এখানে কাত্যায়নীরূপী দশভূজা৷ একচালায় অবস্থিত সম্পূর্ণ শোলার কারুকার্যে অলঙ্কৃত দেবী প্রতিমা৷ প্রতিমার দুপাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর বদলে দুই সখী জয়া-বিজয়া৷ কার্তিক ও গণেশ অবশ্য স্বমহিমায় স-বাহন বিরাজমান৷ দূর্গার বাহনও বিচিত্রদর্শন৷ দেহ সিংহের মতো হলেও মুখমণ্ডল ঘোটকের৷ পুরাণে আছে, বৃন্দাবনে শিশু কৃষ্ণকে বধের জন্য কেশাসুরকে পাঠায় কংস৷ কেশাসুর ঘোটকের রূপধারণ করে কৃষ্ণকে বধের পরিকল্পনা করে৷ সেই কাহিনি অনুসারেই এই কাত্যায়নী-রূপী দূর্গা৷
মহাষষ্ঠীর দিন বোধনের আগে মা দুর্গাকে এবাড়িতে সিংহাসনে তোলা হয়৷ কথিত আছে, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু মাতৃ আরাধনার সময় এক মহিলার থেকে নবপত্রিকার থান অনুদান পেয়েছিলেন৷ তখন সধবার প্রতীক হিসাবে থানের উপর লম্বাভাবে সিঁদুরের দাগ কেটে দেওয়া হয়৷ বোধনের দিন নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে থান পড়ানোর পর লম্বাভাবে সিঁদুরদানের সেই প্রথা আজও প্রচলিত৷
কালের হাত ধরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর পরিবার প্রসারিত হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে পুজোর আয়োজনও এক থেকে বহু হয়৷ যেমন- কিশোর পরিবার, বিহারী, মাধব, লাল, কুমার, নন্দ, চাঁদ ও মোহন পরিবার৷ এই মোহন পরিবারেই বিশেষ ঘটা করে, মহাসাড়ম্বরে পুজো হয়৷ মহাপ্রভুর ১৪ তম বংশধর তথা পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য সদস্য সমরেন্দ্রমোহন গোস্বামীর হাতে আজ এই পুজোর ভার৷ বাড়ির সদস্য তথা নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর বংশধর সরোজেন্দ্রমোহন গোস্বামীর কথায়, “নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর আশীর্বাদে চার শতক পরেও এই পুজোকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি৷”

বিশ্বকর্মা পুজোর পর দিন থেকেই মেজবাটির শ-খানেক সদস্যদের মধ্যে উৎসবের চেনা আমেজ চলে আসে৷ আর পাঁচটা পুজো বাড়ির মতোই এখানে মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী আনন্দে মেতে ওঠে আট থেকে আশি৷ দোসর হয় এলাকার সাধারণ মানুষও৷ বাড়িতে এখন সাজ-সাজ রব৷ মা আসছেন ধরায়৷ বরণ করতে হবে যে তাঁকে…
সর্বশেষ খবর
-
টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লাশ, রাস্তায় স্পষ্ট দাগ! দুর্গাপুরের উড়ালপুরে নিচে যুবকের দেহ
-
বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক, থাকা-খাওয়ার সমস্যা! ড্র করে ভারতের ‘অব্যবস্থা’কেই বিঁধলেন পানামা কোচ
-
ঝড়বৃষ্টিতে হাইটেনশন তার ছিঁড়ে বিপত্তি, মর্মান্তিক মৃত্যু ২ শাবক-সহ মা হাতির!
-
সমর্থন ‘বন্ধু’ রাশিয়া-সহ ৩ দেশের! রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের পথে আরও এগোল ভারত
-
বিজেপির হয়ে ভোটে লড়তে বলেছিলেন জ্ঞানেশ, বিস্ফোরক প্রাক্তন আমলা, ফের বিতর্ক