৫৩০ বছর ধরে ব্রহ্মচারী বাড়িতে মা একাই পূজিতা হন

১২০ বছর আগে বলির পশুর মৃত্যু হওয়ায় প্রথাই উঠে গিয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৮, ১৭:২১

options
link
৫৩০ বছর ধরে ব্রহ্মচারী বাড়িতে মা একাই পূজিতা হন
ছবিতে সোনারপুরের ব্রহ্মচারীদের মা দুর্গা।

সেই কবেকার কথা। আজও একইরকম ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বনেদি বাড়ির পুজো। কত নাজানা ইতিহাস কথা বলে পুজোর দালানে। কলকাতা, শহরতলি ও জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে এমন বহু পুজো। আজ রইল বাংলাদেশের রাজশাহীতে শুরু হওয়া সোনারপুরের ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোর কথা।

Advertisement

রাহুল চক্রবর্তী: আশ্বিনের প্রাণবন্ত পরিবেশ মনে করিয়ে দিচ্ছে একটি বছর পর মা আসছেন। আসছেন তাঁর ৫০০ বছর পেরনো সেই পুরনো বাড়িতেই। অপেক্ষার ক’টা দিন চোখের নিমেষেই বিদায় নেবে। তাই বোধনের তোড়জোড়। সাজসাজ রব। একান্নবর্তী পরিবারের অটুট মায়ার বন্ধনে কাছে-দূরের সকলে জড়ো হবেন এক ছাদের তলায়। একসঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, খাওয়াদাওয়া, আড্ডা, গল্পগুজব, সবটাই চলবে পুজোর চারদিন ধরে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে।

Advertisement

সাবেকিয়ানায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই। বনেদি বাড়ির পুজো হিসাবে এলাকায় বিশেষ পরিচিত সোনারপুর থানার মালঞ্চ গ্রামের ব্রহ্মচারীদের পুজো। বাংলাদেশের রাজশাহীতে এই পুজোর সূত্রপাত হলেও ৫৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পরম্পরাকেই বজায় রেখে চলেছেন ব্রহ্মচারী পরিবারের সদস্যরা। তাঁরাই জানান,  বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার চামু ব্রহ্মচারীর হাতে শুরু হয় দুর্গাপুজো। পারিবারিক সূত্র ধরে বর্তমানে সোনারপুরের মালঞ্চতে পূজিত হন দেবী। নন্দীকেশ্বর পুরাণ মতে মহিষাসুরমর্দিনীর পুজো হয় এখানে। তবে অন্যান্যদের সঙ্গে এই বাড়ির পুজোয় বিশেষত্ব আছে অনেক দিক থেকে। চার সন্তানদের কেউই দেবীর সঙ্গে থাকেন না। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হয়। আর দশমীতে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা কাঁধে করে দেবীকে মণ্ডপ থেকে বিসর্জনের পথে নিয়ে যান।

Advertisement

[অভাবের সংসারে স্বপ্নাদেশ, তিন দশক পর মাতৃ আরাধনা শুরু পাল পরিবারে]

আগে ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোয় পাঁঠা বলির রেওয়াজ ছিল। কিন্তু এখন তা বন্ধ। পরিবারের সদস্যরা জানান,  প্রায় ১২০ বছর আগে বলির জন্য পশু আনা হয়েছিল। কিন্তু বলির আগেই পশুটি মারা যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রথা। এখন চালকুমড়ো ও ফল বলি হয়। ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোয় বিশেষত্ব রয়েছে ভোগেও। চিরাচরিত প্রথা মেনে পুজোর সমস্ত ভোগ তৈরি হয় ঘি দিয়ে। তেল ব্যবহার হয় না কোনওভাবেই। পুজোর ভোগ রান্না করেন বাড়ির মেয়েরাই। পরিবারের সদস্যরা জানান,  বংশ পরম্পরায় পুরোহিত,  ঢাকিরা দায়িত্ব নিয়ে এই মালঞ্চ বাড়ির পুজোর কাজকর্ম সামলান। মালঞ্চ গ্রামের মধ্যে একটা সময় ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোটাই ছিল একমাত্র। এখন স্থানীয় কয়েকটি ক্লাব পুজোর আয়োজন করলেও সাবেকিয়ানা,  ঐতিহ্য,  নিষ্ঠায় ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোতেই ভিড় জমান এলাকার সমস্ত মানুষজন। গ্রাম ছাড়িয়ে শহরতলির মানুষজনও মা দুর্গার আশীর্বাদ পেতে ভিড় করেন এই বাড়িতে।

[শের শাহের দান করা জমিতেই ঘোষাল বাড়িতে শুরু মায়ের পুজো]

পুজো উপলক্ষে যেন একটা পারিবারিক মিলন উৎসবের চেহারা নেয় গোটা বাড়িটা। ব্রহ্মচারী পরিবারের বর্তমান সদস্যের কথায়,  পুজোর জৌলুস হয়তো আগের মতো নেই। কিন্তু,  বনেদিয়ানা এখনও বর্তমান। পুজোর কটাদিন বাড়ি ছেড়ে বেরতেই ইচ্ছা করে না। বাড়ির পুজো ছেড়ে কেউ এই সময় বাইরে ঠাকুর দেখতেও যান না। সব আনন্দটাই বাড়ি ঘিরে। একান্নবর্তী পরিবার আজ ভাঙছে। বলা ভাল ছোট হচ্ছে পরিবার। সকলেই আমার পরিবার,  আমার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু এটা যদি সমাজের এক অংশের ছবি হয়, তাহলে এ ছবিটাও দেখা যায় যখন ব্রহ্মচারী পরিবারের সকলে পুজোর ক’টি দিন মিলিত হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন বছরভর। বর্তমান সমাজে মধ্যবিত্ত বাঙালির এই মেলবন্ধনকেই আরও নিবিড় বন্ধনে বেঁধে রাখতে চান ব্রহ্মচারী পরিবারের প্রতিটি সদস্য।

[শত্রুকে বলি দিয়েই এই পরিবারে পুজোর সূচনা হয়]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.