Amit Shah

ক্ষমতায় এলে ভাতা ডবল! মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩ হাজার দেওয়ার ঘোষণা ‘শাহী’ সংকল্পপত্রে

ভোটের মুখে সংকল্পপত্র প্রকাশ বিজেপির। শুক্রবার বাংলায় এসে সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন অমিত শাহ। ১০ হাজার পরামর্শদাতার কথা অনুযায়ী বিজেপির সংকল্পত্র তৈরি করা হয়েছে। 

Advertisement
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১৯:২৫

options
link
ক্ষমতায় এলে ভাতা ডবল! মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩ হাজার দেওয়ার ঘোষণা ‘শাহী’ সংকল্পপত্রে
সংকল্পপত্র পেশ অমিত শাহের। ১০ এপ্রিল, ২০২৬। নিউটাউন।

ভোটের মুখে সংকল্পপত্র প্রকাশ বিজেপির। শুক্রবার বাংলায় এসে সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। ১০ হাজার পরামর্শদাতার কথা অনুযায়ী বিজেপির সংকল্পত্র তৈরি করা হয়েছে। 

Advertisement

অমিত শাহ বলেন, “মোদির বিকাশিত ভারতের প্রতিফলন সংকল্পপত্র। মহিলা থেকে কৃষক, সবস্তরের মানুষকে আশার আলো দেখাবে। নিরাশা দূর করবে এই সংকল্পপত্র। বাংলাবাসীকে অনুদান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিন্ডিকেট, গুন্ডা, অনুপ্রবেশকারীদের গত ১৫ বছর যেন কালরাত্রির মতো কেটেছে বাংলার মানুষের। সংকল্পপত্র নতুন আশা, নতুন ভরসার। বাংলার মানুষ এখন মনেপ্রাণে পরিবর্তন চান। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর সমস্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের দাবিপূরণ করে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে মোদি। সেই কাজই নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছেন।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার ডাক দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “আমাদের পেশ করা চার্জশিটে বাংলার মানুষ দেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ঠিক কী করেছে। বাংলার নববর্ষে সংকল্প যাত্রা শুরু হবে। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর আশপাশের সময় ভয় থেকে মুক্তি হবে বাংলাবাসীর। বিজেপির হাত ধরে নতুন বাংলা গঠন হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন দূর হবে। আগামী ৫ বছর বিজেপি সরকার বাংলার বিকাশের রাস্তা খুলবে। ভয়, বিভেদ, ভ্রষ্টাচারকে দূরে সরিয়ে এগোবে বাংলা। এবার বাংলার মানুষ নতুন রাস্তা খুঁজে পাবে, এটা আমাদের আস্থা। সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি।”  আরও একবার অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন শাহ। তিনি বলেন, “কলকাতাবাসী ভাবছেন এভাবে অনুপ্রবেশ চললে এক সময় বাংলা বাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। আমি কথা দিচ্ছি বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা হবে।” 

Advertisement

একনজরে দেখে নিন কী রয়েছে বিজেপির সংকল্পপত্রে:

  • জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা।
  • ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন পাবেন সরকারি কর্মীরা।৩০০০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে পাবেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মহিলারা। মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে টাকা পাওয়া যাবে।
  • সরকারি ও পেনশনভোগীদের ডিএ নিশ্চিত করা হবে।
  • আয়ুষ্মান ভারত-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বাংলাবাসী।
  • মহিলাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, ক্যানসার রোধের বন্দোবস্ত করা হবে।
  • ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা হবে।
  • স্টার্ট আপের বন্দোবস্ত, ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে যুবকদের ব্যবসায়ী করে তোলা হবে।
  • ৩০০০ টাকা বেকার যুবকদের প্রতি মাসে দেওয়া হবে।
  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
  • দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র পেশ করা হবে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • কয়লা ও বালিপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
  • গরুপাচার রোধে বিশেষ বন্দোবস্ত করা হবে।
  • ভোট পরবর্তী হিংসার শিকারদের পাশে দাঁড়াতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাহায্যে আইনি ব্যবস্থা দেওয়া হবে।
  • মহিলাদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড গড়া হবে।
  • আলু, ধান ও আমচাষিদের থেকে কৃষিজ সামগ্রী সরাসরি কিনবে সরকার। বাড়ানো হবে সহায়ক মূল্য। কুইন্টাল প্রতি ৩ হাজার ১০০ টাকা করে ধান কেনা হবে।
  • বাংলাকে মুখ্য বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে।
  • চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হবে। আগামী ১ বছরের মধ্যে চা বাগানের উন্নতি হবে। দার্জিলিংয়ে চা-কে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বোর্ড গঠন। 
  • উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন থেকে বরাবর বঞ্চিত। উত্তরবঙ্গে এইমস, ক্যানসার হাসপাতাল,  আইআইটি এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান খোলা হবে।
  • কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
  • যানজট ও যাত্রীভোগান্তি দূরীকরণে কলকাতা মেট্রোর আরও প্রসার।
  • রাজ্য়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিল খোলার বন্দোবস্ত। আধুনিক উপায়ে পাট প্রক্রিয়াকরণের বন্দোবস্ত।
  • বন্দেমাতরম সংগ্রহশালা তৈরি হবে বাংলায়। 
  • কলকাতার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ।
  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে রেলের জমিজট কাটিয়ে রেলপথের আরও প্রসারণ করা হবে।
  • কলকাতা বন্দরের বিশেষ উন্নয়ন করা হবে। 
  • কুলপি ও তাজপুরের গভীর সমুদ্রে নতুন বন্দর তৈরি হবে।
  • সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ।
  • সরকারি বাসে মহিলাদের বিনা টিকিটে যাতায়াতের বন্দোবস্ত।
  • অন্তঃসত্ত্বাদের এককালীন ২১ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
  • সিঙ্গুরে বিজনেস পার্ক তৈরি হবে। ৫০ শতাংশ জমি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কাজে লাগানো হবে।
  • ৫ বছরে ১ কোটি নতুন চাকরির বন্দোবস্ত করা হবে।
  • আলুচাষিদের জন্য কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্লকে ব্লকে আলু ও আমের জন্য কোল্ডস্টোরেজ।
  • জঙ্গলমহলে আধুনিক সরকারি হাসপাতাল করা হবে।
  • মিডডে মিলে চুরি বন্ধ করা হবে।
  • দুধ উৎপাদন ৪ গুণ বাড়ানো হবে।
  • মেধাবী ছাত্রদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপের বন্দোবস্ত। 
  • বাংলার সংস্কৃতিকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছনোই লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে বিশেষ প্রতিষ্ঠান।
  • থিয়েটার নিয়ে একটি আধুনিক কেন্দ্র তৈরি হবে। 
  • বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা।
  • চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য আধুনিক স্কুলের চেন তৈরি হবে।
  • বিধবা ও প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তা দ্বিগুণ করতে হবে।
  • দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে।
  • রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে কেন্দ্র করে পর্যটনে জোয়ার আনা হবে।
  • পিএম মৎস্য প্রকল্পের আওতায় আনা হবে মৎস্যজীবীদের।
  • সোনার বাংলা নির্মাণে বাংলা মৎস্যজীবী, কৃষক থেকে সবস্তরের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বিজেপি সরকারের লক্ষ্য।

অমিত শাহের আর্জি, “আপনারা বামেদের সুযোগ দিয়েছেন। তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন। এবার বাংলার উন্নয়নের সুযোগ দিন বিজেপিকে।” ‘সোনার বাংলা’ তৈরিতে সকলকে শামিল হওয়ার আহ্বানও করেন শাহ। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.