বঙ্গে পালাবদল
West Bengal Assembly Election

বিধানসভায় অনুবাদকই নেই, কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়া নিয়ে ৫ বিধায়কের জটিলতা

বিধানসভার সচিবালয়ে যোগাযোগ করলে ওই ৫ বিধায়ককে জানিয়ে দেওয়া হয় বাংলা, হিন্দি, ইংরাজি, উর্দু ও সাঁওতালি ভাষার মধ্যেই শপথ পাঠের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। আর এই নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপির কুড়মি বিধায়করা। সমাজমাধ্যমেও সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১১, ২০২৬, ১৫:৫১

options
link
বিধানসভায় অনুবাদকই নেই, কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়া নিয়ে ৫ বিধায়কের জটিলতা
কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়া নিয়ে ৫ বিধায়কের জটিলতা। ফাইল ছবি

তৃণমূলের জমানায় কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য। কিন্তু বিধানসভার সচিবালয়ে ওই কুড়মালি ভাষার কোন অনুবাদকই নেই। তাই জঙ্গলমহলের বিজেপির ৫ কুড়মি বিধায়ক কুড়মালি ভাষায় শপথ নিতে চাইলেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। ওই বিধায়করা এই বিষয়ে বিধানসভার সচিবালয়ে যোগাযোগ করলে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয় বাংলা, হিন্দি, ইংরাজি, উর্দু ও সাঁওতালি ভাষার মধ্যেই শপথ পাঠের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। আর এই নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপির কুড়মি বিধায়করা। সমাজমাধ্যমেও সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “তৃণমূল সরকার ২০১৮ সালে নোটিফিকেশন জারি করে আমাদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর এখন দেখছি বিধানসভার সচিবালয়ে কুড়মালি ভাষার অনুবাদক নেই। তাহলে তো সরকারি আদেশনামা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। অবিলম্বে কুড়মালি অনুবাদক নিয়োগ করতে হবে। এর সঙ্গে কুড়মি আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জঙ্গলমহলে বিজেপির ৫ কুড়মি বিধায়ক হলেন পুরুলিয়ার জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো, বলরামপুরের জলধর মাহাতো, বাঘমুণ্ডির রহিদাস মাহাতো, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের
রাজেশ মাহাতো ও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বিমান মাহাতো। তিনি সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ” কুড়মালি ভাষাতে শপথ গ্রহণের জন্য নিয়ম মত বিধানসভা সচিবালয়ে মেইল করি, সেই মেলের উত্তর হিসাবে সচিবালয় জানায় যে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও সাঁওতালির মধ্যে শপথ পাঠের ভাষা সিলেক্ট করতে হবে। পাল্টা যখন যোগাযোগ করি তখন জানতে পারি যে ধাপ্পাবাজ তৃণমূল সরকার কুড়মালি ভাষাকে সেকেন্ড অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে স্বীকৃতি দিলেও সচিবালয়ে ট্রান্সলেটের কোন ব্যবস্থাই রাখে নাই। এরকম একটা অবস্থায় আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে সচিবালয়ের সাথে সহযোগিতা করে কুড়মালিতেই শপথ নিতে পারি। কিন্তু আজ এই সমস্যার মধ্যে আমাদের পড়তেই হতো না যদি আগের সরকার ধাপ্পাবাজি না করত।”

Advertisement

এই পোষ্টের পর কুড়মি জনজাতির মানুষজন বলছেন, ঝাড়খন্ডে সম্ভব হলে এখানে কেন হবে না?একদিন পরে হবে। কিন্তু ইতিহাস তৈরি করতে হবে। আগামী মঙ্গল ও বুধবার
বিধায়কদের শপথ নেওয়ার দিন। অতীতের ইতিহাস বলছে, ঝাড়গ্রামের বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নরেন হাঁসদা সাঁওতালি অনুবাদক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নেননি। অধ্যক্ষ পরে ওই ভাষার অনুবাদক নিয়োগ করে তারপর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক ছিলেন। সমাজ মাধ্যমে এই উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.