West Bengal Assembly Election

শুধু কৌটো ঝাঁকিয়ে নয়, ছাব্বিশের ভোটে ডিজিটাল অর্থ সংগ্রহে জোর বামেদের

বাম সরকার যখন ক্ষমতায় তখন সিপিএম পথে, বাড়িতে গিয়ে কৌটো ঝাঁকিয়ে চাঁদা তুলছে, এ ছবিটা ছিল স্বাভাবিক। রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেভাবেও চাঁদা সংগ্রহ চলত। তবে এখন সময় বদলেছে।

Advertisement
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৪:১৪

options
link
শুধু কৌটো ঝাঁকিয়ে নয়, ছাব্বিশের ভোটে ডিজিটাল অর্থ সংগ্রহে জোর বামেদের
পথে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ বামেদের। ফাইল ছবি

ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) কৌটো ঝাঁকিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেয়ে ডিজিটালি অর্থসংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম। পথে নেমে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে এবার মাধ্যমকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে দলের ছাত্র যুব সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য ক্রাউড ফান্ডিং হয়েছে। একুশের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের কোনও কোনও প্রার্থী এমনভাবে লড়াইয়ের রসদ জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু সরাসরি দলের ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ জোগাড় এবার ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রথম। নির্বাচনী ফান্ডে দলের ডিজিটাল তহবিলেও জমা হচ্ছে অর্থ।

Advertisement

বাম সরকার যখন ক্ষমতায় তখন সিপিএম পথে, বাড়িতে গিয়ে কৌটো ঝাঁকিয়ে চাঁদা তুলছে, এ ছবিটা ছিল স্বাভাবিক। রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেভাবেও চাঁদা সংগ্রহ চলত। তবে এখন সময় বদলেছে। তাই বিধানসভা ভোটকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউপিআই-এর মাধ্যমে সমাজ মাধ্যমে অনুদানের আর্জি জানিয়ে তহবিলে অর্থ তুলছে সিপিএম। সমাজ মাধ্যমে রীতিমতো সক্রিয় সিপিএমের যুব নেতা-নেত্রীরা। দলের প্রচারেও এবার এআই-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই অর্থ সংগ্রহেও তো নতুন প্রযুক্তির পথেই হাঁটকতে হবে বলছেন জেলাস্তরের এক সিপিএম নেতা। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, কলকাতা-সহ একাধিক জেলা কমিটিই ভোটের তহবিল গড়তে ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পাশাপাশি, ছাব্বিশের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কুপন ছাপিয়েছে সিপিএম। পাশাপাশি চাঁদার বিল তো আছেই। সমস্ত শাখাস্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ছাপানো কুপন ও বিল। শুধু তাই নয়, এরিয়া কমিটির সদস্যদের অর্থ সংগ্রহের কোটাও এবার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কোটা দেওয়া হয়েছে এরিয়া কমিটির নেতাদের। কাজেই এবার নির্বাচনে কৌটো ঝাঁকিয়ে অর্থ সংগ্রহ কার্যত বন্ধ রেখেছে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে, ক্ষমতা থেকে বহু দূরে পার্টি। ধীরে ধীরে তহবিলে জমানো অর্থ কমেছে। আয় কমেছে পার্টির। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোট প্রচারেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে সিপিএমকে। সাধারণত আমজনতার কাছ থেকে লাল শালুতে বা কৌটো ঝাঁকিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছেন কমরেডরা।

Advertisement

সিপিএম নেতাদের বাখ্যা, অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে শুধু তহবিল শক্তিশালী করা নয়, আমজনতার সংযোগ বাড়ে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সময়ে পথে দেখা গিয়েছে বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তীদের। ১ মে, অর্থাৎ মে দিবসের দিন এবং বিশেষ কোনও কর্মসূচি থাকলে কৌটো ঝাঁকিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পাড়ায় পাড়ায় দেখা যায় কমরেডদের। তবে তাতেও সবটা কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সেই কারণে এবার ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করছে পার্টি। এবার নির্বাচনে অবশ্য কুপন-বিলেই মূলত তোলা হচ্ছে। আর ডিজিটালি কেউ দিতে চাইলে কেন্দ্রীয়ভাবে সেই অর্থ জেলাস্তরে নেওয়া হচ্ছে। সিপিএম নেতৃত্বের কথায়, ইলেক্টোরাল বন্ড-এর কিংবা দুর্নীতি বা ঘুষের টাকায় তাঁদের পার্টি চলবে না। আর সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম এই মুহূর্তে সময়োপযোগী। শাখাস্তরের প্রতিটা সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থ সংগ্রহের জন্য।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.