West Bengal Assembly Election

‘কোদাল-বেলচা’, ‘ধানের শিষ’ আঁকতে নারাজ সিপিএম কর্মীরা, লোকাভাবে দেওয়াল লিখন থমকে বাম শরিকদের

সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের দাবি, বৈষ্ণবনগর এবং মালদহে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হলে সদস্যপদ থেকে গণ ইস্তফা দেবেন।

Advertisement
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৬, ১৫:৩১

options
link
‘কোদাল-বেলচা’, ‘ধানের শিষ’ আঁকতে নারাজ সিপিএম কর্মীরা, লোকাভাবে দেওয়াল লিখন থমকে বাম শরিকদের
সিপিআই, আরএসপি-র প্রতীক দেওয়ালে আঁকতে নারাজ সিপিএম কর্মী, সমর্থকরা।

শরিক-কাঁটা ভোটের দেওয়াল লিখনে। প্রচারের ‘ধানের শিষ’ আঁকতে প্রবল আপত্তি ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএমের কর্মীদেরই! আপত্তি ‘কোদাল বেলচা’তেও। তাঁদের সাফ কথা, ‘কাস্তে হাতুড়ি তারা’ প্রতীক চান। বামেদের এই দীর্ঘ দুঃসময়েও শরিক-শরিক মতানৈক্য যে অব্যাহত, প্রতীক আঁকা থেকে পিছিয়ে তারই প্রমাণ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) প্রচারপর্ব ঘিরে নিচুতলার সেই লড়াই প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। এই চিত্র মালদহের।

Advertisement

গত সোমবার বামফ্রন্ট আংশিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। মালদহ জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে ৪টি ফাঁকা রেখে ৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। যার মধ্যে সিপিএমের প্রার্থী ৬ জন। সিপিআই ও আরএসপির একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। বৈষ্ণবনগরে আরএসপি এবং মালদহ বিধানসভায় সিপিআই প্রার্থী লড়ছেন। সিপিএমের একাংশের দাবি, শরিক দুই দলের দুই প্রার্থীর সমর্থনে ভোট প্রচারে নারাজ দলের পার্টি সদস্য ও কর্মীরা। তাঁরা মালদহ বিধানসভা আসনে সিপিআই প্রার্থী চান না। বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও আরএসপি প্রার্থীর পরিবর্তে তাঁরা চান সিপিএম দলের প্রার্থীকেই। দুই কেন্দ্রেই অবিলম্বে প্রার্থীদের প্রতীক বদল করতে হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মালদহ জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে ৪টি ফাঁকা রেখে ৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। যার মধ্যে সিপিএমের প্রার্থী ৬ জন। সিপিআই ও আরএসপির একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। বৈষ্ণবনগরে আরএসপি এবং মালদহ বিধানসভায় সিপিআই প্রার্থী লড়ছেন। সিপিএমের একাংশের দাবি, শরিক দুই দলের দুই প্রার্থীর সমর্থনে ভোট প্রচারে নারাজ দলের পার্টি সদস্য ও কর্মীরা। তাঁরা মালদহ বিধানসভা আসনে সিপিআই প্রার্থী চান না। বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও আরএসপি প্রার্থীর পরিবর্তে তাঁরা চান সিপিএম দলের প্রার্থীকেই।

এমনকী এই দাবি না মানলে পুরনো মালদহের দুই শতাধিক পার্টি সদস্য গণ ইস্তফা দিয়ে ফেলবেন বলেও ফ্রন্ট নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিপিএম সদস্যরা। দেওয়াল লিখনে ‘ধানের শিষে’র বদলে তাঁরা আঁকছেন ‘হাতুড়ি তারা’! বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও তাঁরা আরএসপি প্রার্থীর সমর্থনে ‘কোদাল বেলচা’ আঁকতে নারাজ। এনিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলার বাম নেতৃত্ব। ওই দুই শরিক দলের নেতারাও ক্ষোভে ফুঁসছেন। বামফ্রন্ট সূত্রে খবর, মালদহ বিধানসভা আসনটি বাম শরিক দল সিপিআইকে ছাড়া হয়েছে। সেখানে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থী হিসাবে দীপক বর্মনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সিপিএম পার্টি সদস্যদের একাংশ দলীয় কর্মীদের নিয়ে পুরাতন মালদহ এলাকায় সিপিআই প্রার্থী ও তাঁর নাম ফাঁকা রেখেই দেওয়াল লিখন করছেন। সেই সিপিএম সদস্যদের অভিযোগ, এখানে সিপিআইয়ের কোনও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। সারাবছর সিপিএম লড়াই আন্দোলন করে। অথচ এবার ভোটের সময় সিপিআই উদয় হয়েছে। তাঁরা চান এই কেন্দ্রে অবিলম্বে প্রার্থী বদল করা হোক। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থীর বদলে সিপিএম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হোক। তাঁদের এই দাবি মানা না হলে তাঁরা পার্টির সদস্য পদ থেকে গণ ইস্তফা দেবেন।

Advertisement

অন্যদিকে, বৈষ্ণবনগরেও বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এখানে আরএসপির দুন্দুভি সাহাকে প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। কিন্তু এখানেও আরএসপি প্রার্থীর সমর্থনে ‘কোদাল বেলচা’ প্রতীক এঁকে ভোট প্রচারে রাজি নন বড় শরিক দলের কর্মীরা। তাঁরা জানান, বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের হয়ে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন দীনেশ জোয়ারদার ও বিশ্বনাথ ঘোষ। কিন্তু এবার বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় সিপিএমের প্রার্থী নেই। ওই কেন্দ্রের সিটু নেতা রেজাউল করিম বলেন, “২০১১ সালের পর থেকে বামফ্রন্টের কোনও মিটিংয়ে আরএসপির কোনও প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। হঠাৎ করে আরএসপি-কে কেন প্রার্থী করা হল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এর উত্তর জেলা নেতৃত্বকে দিতে হবে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.