নির্বাচন কমিশনের আজব কাণ্ড পুরুলিয়ায়! ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে না যাওয়ায় ৪ শিক্ষক প্রার্থীকেই শো-কজের চিঠি ধরিয়ে দিল কমিশন। শুধু প্রার্থী নন, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এমন প্রাথমিক শিক্ষককেও শো-কজ করা হয়েছে! এমনকী মারা গিয়েছেন অথচ সেই সরকারি কর্মীর নামেও শো-কজের চিঠি করে বসেছে কমিশন। আজব কাণ্ড-র এখানেই শেষ নয়। মারা যাওয়া সরকারি কর্মী বা চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষিকার সেই শো-কজের চিঠি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ হয়নি। অথচ তাঁদেরকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর চিঠিতে লেখা রয়েছে, চিঠির উত্তরে কমিশন নাকি সন্তুষ্ট নয়! জেলার সরকারি কর্মীরা বলছেন, যিনি মারা গিয়েছেন তিনি কমিশনের শো-কজের চিঠির উত্তর দেবেন কী করে? কমিশনের এহেন কাণ্ডে রীতিমতো হাসি-মস্করা চলছে পুরুলিয়ায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
এই শো-কজের তালিকায় রয়েছেন রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি, পাড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নদিয়ার চাঁদ বাউরি, বান্দোয়ানের বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কে ও কাশিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী সুভাষচন্দ্র মাহাতো। তবে বিপাকে পড়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ধরনের শো-কজের চিঠি গুলিকে উপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন উপেক্ষার কথা বললেও সেই বার্তা প্রার্থীদের কাছে যায়নি। তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি বলেন, “এই নির্বাচন কমিশনকে কী বলব, বলুন? বছরের পর বছর ধরে মানুষ ভোট দিয়ে আসছেন, তাদের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। জীবিতকে মৃত করছে। আমি তো শো-কজের প্রথম চিঠিতেই লিখেছিলাম, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী। তাছাড়া আমি একমাস ছুটি নিয়েছি। এই কমিশন সম্পূর্ণভাবে বিজেপি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এইভাবে ভোটে (Bengal Election 2026) জেতা যায় না। কমিশন যত এই ধরনের কাজ করছে আমাদের ভোট তত বাড়ছে। তবে দ্বিতীয় চিঠি এখনও আমি হাতে পাইনি।”
অন্যদিকে, বান্দোয়ানের বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কে জানিয়েছেন, “আমি সত্যিই কমিশনের দু’দুটো চিঠি পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছি। আমি তো প্রার্থী। আমি তো কমিশনের কাছেই মনোনয়ন করেছি।” রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি রঘুনাথপুর তৃতীয় সার্কেলের সহকারি শিক্ষক। অন্যদিকে পাড়ার বিজেপি প্রার্থী নদিয়ার চাঁদ বাউরি রঘুনাথপুর দ্বিতীয় সার্কেলের সহকারি শিক্ষক পদে রয়েছেন। বান্দোয়ানের বিজেপি বিধায়ক লবসেন বাস্কে বরাবাজার এক সার্কেলের প্রধান শিক্ষক।
কাশিপুরের সুভাষচন্দ্র মাহাতো কাশিপুর সার্কেলের সহকারি শিক্ষক। যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর নাম পীযূষকান্তি সরকার। পুরুলিয়া শহরের কেতকার বাসিন্দা ছিলেন। জয়পুর ব্লকের ভেলাইডি এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষকতা করতেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন মনীষা গোস্বামী। তিনি জয়পুর সদরে প্রাথমিক শিক্ষকতা করতেন। করোনা অতিমারীর সময় লকডাউনের আগেই ওই চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে না গিয়ে এই জেলায় মোট শো-কজ হন ৫৮২ জন। প্রথম দফার ভোটের এই জেলায় দ্বিতীয় পর্বের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ১৬ এপ্রিল থেকে। চলবে দু’দিন ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
এসআইআর ইস্যুতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ইন্ডিয়ার, সই করল ‘দলছুট’ আপ-ডিএমকেও
-
প্রেমের টানে ধর্মান্তর, দাড়ি কেটে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হলেন উত্তরপ্রদেশের যুবক, গ্রেপ্তার প্রেমিকা
-
‘সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব’, ডিম ছোড়া বন্ধে রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ আদালতের
-
আরবানায় থাকার যোগ্যতা থেকে ফুটপাথের মেয়েকে অসম্মান, রচনার ‘কুবচনে’ ফুঁসছেন ঋদ্ধি- ঋত্বিক-শ্রীলেখারা
-
বিধান ভবনে বাদানুবাদ, কর্মসূচি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে উত্তেজিত মনোজ, কড়া বার্তা বেণুগোপালের



