বাম আমলে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিকে নিয়ে বৃহত্তর ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দাবিতে ঢের আন্দোলন হয়েছে। রক্ত ঝরেছে, হয়েছে মৃত্যুও। এই আন্দোলনের অন্যতম মূল কারিগর শিবু সোরেন আজ আর নেই। কিন্তু রয়েছেন তাঁর দুই অনুগামী আজসু সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো ও বর্তমানে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। প্রথমজন পুরোপুরি রাজনীতিতে। আর দ্বিতীয়জন রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন নানা দাবিদাওয়া পূরণে। আর এই আবহেই বাংলার বিধানসভা ভোটে ঝাড়খণ্ডি দলগুলি এ রাজ্যে তাদের সংগঠনকে মজবুত করতে চাইছে। কিন্তু কেন?
আরও পড়ুন:
গত আট-ন’মাসে ওই ঝাড়খণ্ডি দলগুলি জঙ্গলমহলের জেলা পুরুলিয়ায় একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়ার পরেও এই কারণ একেবারে সোজাসুজিভাবে স্পষ্ট করেনি। কিন্তু তারপরেও পুরুলিয়ার অধিকাংশ কুড়মি অধ্যুষিত ব্লকগুলিতে ঝাড়খণ্ডের ডুমরির বিধায়ক তথা ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার (জেএলকেএম) সুপ্রিমো টাইগার জয়রাম মাহাতোর নামে পাগলপারা! নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত ৪ মাসে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় একটিমাত্র রাজনৈতিক সমাবেশ। আর তাতেই ‘টাইগার জ্বরে’ কাঁপছে এই জঙ্গলমহল। বিশেষ করে পুরুলিয়া। অন্যদিকে আজসুর (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন)সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো সমগ্র জঙ্গলমহল জুড়ে চক্কর না কাটলেও বাঘমুন্ডি তাঁর পাখির চোখ। আর এই দুই ঝাড়খণ্ডি দলের ঘনঘন বঙ্গ সফরে যেন হারিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ বাম আমলে দাপিয়ে বেড়ানো ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। আসলে বর্তমানে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো ওই রাজনৈতিক দল থেকে সরে আসতেই জঙ্গলমহলে মুক্তি মোর্চায় ভাটা পড়েছে।

নেই ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চার প্রভাবও। তবে আজসু সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো বলেন, “বাংলায় এবারের বিধানসভার নির্বাচন নয়। আমার দলের দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন রয়েছে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে। ওখানকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার যোগ।” ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার (জেএলকেএম) সুপ্রিমো টাইগার জয়রাম মাহাতো জানান, “একদিকে জঙ্গলমহল। আরেকদিকে বাংলার অন্য অংশ। কিন্তু জঙ্গলমহল বঞ্চিত। এখানকার মানুষকে অধিকার পাইয়ে দিতেই আমরা এসেছি।” জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার যে ৯ টি আসনেই
টাইগারের দল প্রার্থী দেবে, তা একেবারেই পরিষ্কার। তবে পুরুলিয়া ছাড়াও জঙ্গলমহলের অন্যান্য জেলার একাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড় চলছে বলে খবর। তবে কৌশলগত কারণে প্রার্থী ঘোষণা পিছিয়ে দিয়েছে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা। ভোট ঘোষণার পরে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে যে যে দফায় নির্বাচন হবে তার আগে সেখানকার প্রার্থী ঘোষণা হবে।

তবে আজসু ও জেএলকেএম এই দুটি ঝাড়খণ্ডি দলই চায় কুড়মি জনজাতি আদিবাসী তালিকাভুক্ত হোক। সেইসঙ্গে ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন লাগুর দাবি জানিয়েছে জেএলকেএম। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের একটি কর্মসূচি থেকে টাইগার জয়রাম মাহাতো তাঁর বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন লাগুর জন্য। তবে এই দুটি ঝাড়খণ্ডি দল জঙ্গলমহলে প্রার্থী দিলে কুড়মি ভোট যে ভাগাভাগি হয়ে যাবে তা নিশ্চিত।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের অঙ্ক অনুযায়ী, বিজেপির দিকে পড়া কুড়মি ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় শাসক দলের যে সুবিধা হবে তা বলছেন জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জঙ্গলমহলের সংস্কৃতির সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের অনেকাংশেই মিল রয়েছে বলে এখানকার মানুষের মন পাওয়া খুব কঠিন নয় বলে মনে করছে ওই ঝাড়খণ্ডি দলগুলি। তাই সংগঠন বাড়িয়ে, দলের বিস্তার ঘটিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ছাপ ফেলতে চায় আজসু ও জেএলকেএম, বলছে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আরবানায় থাকার যোগ্যতা থেকে ফুটপাথের মেয়েকে অসম্মান, রচনার ‘কুবচনে’ ফুঁসছেন ঋদ্ধি- ঋত্বিক-শ্রীলেখারা
-
বিধান ভবনে বাদানুবাদ, কর্মসূচি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে উত্তেজিত মনোজ, কড়া বার্তা বেণুগোপালের
-
রামনবমীতে অশান্তি! এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের কাউন্সিলর স্বামী
-
‘রাজনীতির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয় বইমেলা’, সাফ জানালেন শমীক
-
কিডনির যত্নে গরিব-মধ্যবিত্তের নবদিশা, শম্পা বোসের স্মৃতিতে যাত্রা শুরু নয়া হাসপাতালের