বিজেপির স্ট্যাম্প দেওয়া নির্বাচন কমিশনের চিঠি বিতর্ক আরও উসকে কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে দমদম বিমানবন্দরে ওই চিঠি হাতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ দেখালেন। বললেন, ”ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, কারা এসব করাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কার কথায়, কার কথায় চলছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। আমার প্রশ্ন হল, এভাবে পিছন থেকে কেন? সামনাসামনি খেলুন না।”
আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও দাবি, ”বলা হচ্ছে, ক্লারিক্যাল মিসটেক। ক্লারিক্যাল মিসটেক নাকি পলিটিক্যাল এজেন্ডা?” এ প্রসঙ্গে বিরোধীদের কাছে তাঁর আবেদন, ”সবার বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে আমার আবেদন, কমিশনের এই একপেশে কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সকলে একসঙ্গে প্রতিবাদ করুন। কোনও রং না দেখে জোটবদ্ধ হতে হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আরও দাবি, ”এই চিঠি শুধু কেরলের নয়। এখানে স্পষ্ট লেখা আছে, সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। বলা হচ্ছে, ক্লারিক্যাল মিসটেক। ক্লারিক্যাল মিসটেক নাকি পলিটিক্যাল এজেন্ডা?” এ প্রসঙ্গে বিরোধীদের কাছে তাঁর আবেদন, ”সবার বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে আমার আবেদন, কমিশনের এই একপেশে কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সকলে একসঙ্গে প্রতিবাদ করুন। কোনও রং না দেখে জোটবদ্ধ হতে হবে।”

ঘটনা ২০১৯ সালের। সেসময়ে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো একটি চিঠি কেরল সিপিএম পোস্ট করে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে সোমবার। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই চিঠিতে দেখা গিয়েছে, বিজেপির প্রতীক -সহ সিলমোহর আছে। তা নিয়ে শুরু হয় চর্চা। তৃণমূল এতদিন কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের যে অভিযোগ তুলেছিল, তার সত্যতা প্রমাণিত হয় ওই চিঠিতে। আর তা নিয়ে সোমবার পালটা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেকে। আর মঙ্গলবার তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সরব হলেন।
এদিন দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর হাতে দেখা গেল একটি দৈনিক সংবাদপত্রের অংশ, যাতে এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। তা দেখিয়েই তিনি বললেন, ”এটা আপনাদের সকলকে দেখানোর জন্য এনেছি। ভালো করে দেখুন, নির্বাচন কমিশন চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে বিজেপির স্ট্যাম্প। ঝুলি থেকে বিড়ালটা বেরিয়ে পড়ল তো! কমিশন বিজেপির কথায় একপেশেভাবে সব কাজ করে। নন্দীগ্রামের বিডিও ভবানীপুরে চলে আসছে, কারণ গদ্দারের পছন্দের লোক বলে। এর আগে তো মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ আমাদের সব অফিসারদের সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এভাবে পিছনে কেন? সামনাসামনি খেলাটা খেলুন না।” এরপর তিনি সোমবার মাঝরাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা নিয়েও সরব হন। প্রশ্ন তোলেন, ”মাঝরাতে কেন তালিকা প্রকাশ করা হল? কীসের এত ভয়? নিশ্চয়ই তার মধ্যে স্বচ্ছতা নেই। এত সময়ই বা কেন? কী কী বাদ দিয়েছেন? একতরফা কোনও নাম ঢুকিয়েছেন কি?”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তোলাবাজি করে খেতে হলে তৃণমূল করুন’, দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারি সুকান্তের
-
জাপানের পড়ুয়াদের সঙ্গে শিক্ষার আদানপ্রদান, জাতীয় শিক্ষক তকমা পাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্র
-
মেয়ের নীলছবির ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন বাবাও! ‘কটেন্ট ক্রিয়েটর’ সুমাইয়াকে জেরা করে বিস্ফোরক তথ্য
-
বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হেরে অঙ্ক জটিল, তবুও কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে ভারত?
-
‘সিস্টেমের বিচ্যুতি, ষড়যন্ত্রের ছক’, অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ নিয়ে নতুন কথা শমীকের