ভোট প্রথমা
West Bengal Assembly Election 2026

সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল প্রথম দফার ভোটের হার, বিপুল ভোট কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

প্রথম দফার ভোটে অন্তত লেটার মার্কস পেয়ে পাশ করে গেল নির্বাচন কমিশন। গুটিকয়েক বুথে নামমাত্র অশান্তির খবর বাদ দিলে বড় বঙ্গ ভোটের প্রথমা সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ২১:০৫

options
link
সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল প্রথম দফার ভোটের হার, বিপুল ভোট কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
ভোটের হারে রেকর্ড।

সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে সমাধা হল বঙ্গ ভোটের প্রথমার। একপ্রকার অবিশ্বাস্যভাবে প্রথম দফার ১৫২ আসনে ভোট পড়ল প্রায় ৯২ শতাংশ (সন্ধে ৬টা পর্যন্ত)। যা বাংলার তো বটেই, ভারতীয় রাজনীতিতেই ইতিহাস। রাজ্যের ১৬টি জেলাতেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে, উৎসবের আবহে ভোট দিয়েছেন। দিনের শেষে এটাও বলতে হয়, যে প্রথম দফার ভোটে অন্তত লেটার মার্কস পেয়ে পাশ করে গেল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রায় ৪০ হাজার বুথের মধ্যে গুটিকয়েক বুথে নামমাত্র অশান্তির খবর বাদ দিলে বঙ্গ ভোটের প্রথমা সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ।

Advertisement
Live Updates: West Bengal assembly polls 2026 underway
চলছে ভোটদান। নিজস্ব চিত্র।

এখন প্রশ্ন হল, এই বিপুল হারে ভোটদানের কারণ কী? আর সেটা কী ইঙ্গিত করে? বস্তুত এবারের ভোটবৃদ্ধির মূল কারণ অবশ্যই এসআইআর। প্রথমত, ভোটার তালিকা যত স্বচ্ছ্ব হয়, ভোটের হার তত বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে বাংলায় যে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে তার প্রায় ৬০ লক্ষ হয় মৃত নয় স্থানান্তরিত। অন্তত কমিশনের তথ্য সে কথাই বলছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার এতদিন ভোটার তালিকায় ছিল। যা মোট ভোটারের প্রায় ৮-৯ শতাংশ। এই বিপুল ভোটার ছেঁটে ফেলার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোট শতাংশ সমহারে বেড়েছে। আরেকটু খোলসা করে বলে যাক। এতদিন ভোটার তালিকায় ৮-৯ শতাংশ ছিল অস্তিত্বহীন ভোটার। অর্থাৎ ভোট হচ্ছিলই ৯১-৯২ শতাংশ ভোটারের মধ্যে। ফলে বিপুল হারে ভোট পড়লেও চূড়ান্ত সংখ্যাটা তুলনায় কমই দেখাত। এবার যেহেতু ভোটার তালিকা থেকে ওই বিপুল অস্তিত্বহীন ভোটার কমে গিয়েছে, তাই এমনিতেই ভোটের হার ৮-১০ শতাংশ বেশি দেখাচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এসআইআর প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে বাংলায় যে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে তার প্রায় ৬০ লক্ষ হয় মৃত নয় স্থানান্তরিত। অন্তত কমিশনের তথ্য সে কথাই বলছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার এতদিন ভোটার তালিকায় ছিল। যা মোট ভোটারের প্রায় ৮-৯ শতাংশ। এই বিপুল ভোটার ছেঁটে ফেলার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোট শতাংশ সমহারে বেড়েছে।

তাছাড়া এসআইআরের ফলে এবার অনেক ভোটারের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করেছে। ভোটারদের একটা বড় অংশের মনে হয়েছে, এবার ভোট না দিলে পরবর্তীকালে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে বহু ভোটার যারা হয়তো এতদিন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দোনামনা করতেন, তারাও এবার ভোট দিয়েছেন। ভিনরাজ্য থেকে হাজারে হাজারে পরিযায়ী শ্রমিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এসেছেন স্রেফ ওই আশঙ্কা থেকে। তবে এই দুই ফ্যাক্টরকে হিসাবে ধরেও বলা যায়, আগের তুলনায় কিছুটা হলেও বঙ্গে ভোটদান বেড়েছে। আর সেটাতে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা প্রাপ্য। কমিশন যেভাবে ভোটারদের মনে আতঙ্ক কাটিয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে, সেটাই ভোটবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করেছে।

Advertisement

এখন প্রশ্ন হল, এই বিপুল ভোটবৃদ্ধি কী ইঙ্গিত করে? একটা বহু পুরনো তত্ত্ব ভোট বিশারদরা আউড়ে থাকেন। সেটা হল, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া থাকলে বেশি ভোট পড়ে। তেমন হলে রাজ্যে পোয়াবারো হতে পারে বিজেপির। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক নির্বাচনে সেই মিথ ভেঙেচুরে গিয়েছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ বিহারের নির্বাচন। সেখানে ভোটের হার অনেকটা বাড়া সত্ত্বেও সরকারের বিরুদ্ধে ভোট পড়েনি। বরং আরও বেশি আসন নিয়ে নীতীশ কুমার সরকার গড়েছেন। সম্প্রতি আরও একাধিক নির্বাচনে এই ট্রেন্ড দেখা গিয়েছে। তবে একটা তত্ত্ব সর্বজনবিদিত। বেশি ভোটের নির্বাচন সাধারণত কোনও ‘ওয়েভের’ বা বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দেয়। সেটা শাসকের পক্ষেও হতে পারে বিপক্ষেও। বাংলায় এবারের নির্বাচনে ভোটবৃদ্ধির কারণ যেহেতু SIR, সেক্ষেত্রে SIR-এর বিরোধিতাও ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেটা হলে কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারে তৃণমূল। আপাতত দুই শিবিরই কিন্তু জয়ের দাবি করছে।

একটা বহু পুরনো তত্ত্ব ভোট বিশারদরা আউড়ে থাকেন। সেটা হল, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া থাকলে বেশি ভোট পড়ে। তেমন হলে রাজ্যে পোয়াবারো হতে পারে বিজেপির। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক নির্বাচনে সেই মিথ ভেঙেচুরে গিয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.