হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flash Flood

ভারত-চিনকেও উদ্ধারকাজে ‘না’ নেপালের, ৫০০ মৃত্যুর পরও কেন বিদেশি সাহায্যে আপত্তি কাঠমান্ডুর?

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপাল তছনছ হলেও, সাহায্য নিতে গররাজি বলেন্দ্র সরকার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১৫:৫৬

options
link
ভারত-চিনকেও উদ্ধারকাজে ‘না’ নেপালের, ৫০০ মৃত্যুর পরও কেন বিদেশি সাহায্যে আপত্তি কাঠমান্ডুর?
বিদেশি সাহায্যে না নেপালের।

নেপালে প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০০ জন মানুষের। নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপাল তছনছ হলেও, সাহায্য নিতে গররাজি বলেন্দ্র সরকার। স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) বিধ্বস্ত হলেও কোনও বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নেবে না তাঁরা। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল শুরু হয়েছে। গুরুতর পরিস্থিতিতেও কীসের কূটনৈতিক অঙ্ক চলছে ‘হিমালয়ের দেশে’?

Advertisement

শুক্রবার নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, “ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আপাতত বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” জানা যাচ্ছে, বুধবার বিপর্যয়ের পর ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল নেপালকে। তবে সেই প্রস্তাব খারিজ করেছে নেপাল। উদ্ধারকারী দলের সাহায্য না নিলেও মানবিক সাহায্যে কোনও আপত্তি করেনি কাঠমান্ডু। দুর্যোগের মাঝেই ৪৭.৫ টন মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছে ভারত। ১০ লক্ষ ডলারের মানবিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

Advertisement

বুধবার বিপর্যয়ের পর ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল নেপালকে।

কিন্তু কেন উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য এড়িয়ে যাচ্ছে নেপাল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যেহেতু দুর্যোগস্থল তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলা, তাই চিন চায় না এখানে কোনও বিদেশি উদ্ধারকারী দল প্রবেশ করুক। সেক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের সামরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ভিন দেশের নজরে চলে আসতে পারে তিব্বত অঞ্চলে চিনের সামরিক গতিবিধি। যার জেরে অনুমান করা হচ্ছে, বেজিংয়ের চাপেই এই পদক্ষেপ কাঠমান্ডুর। প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভট্টরাইয়ের মতে, রসুয়া জেলা তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত। তাই জায়গাটি সামরিকভাবে স্পর্শকাতর। এর ফলেই বিদেশি কোনও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। যদিও বিদেশ মন্ত্রক সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

Advertisement

এদিকে বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানের পর শুক্রবার তিব্বতে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভাঙার খবর সামনে এসেছে। অর্থাৎ বুধের বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ফের নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কায় নেপাল। ঘটনার জেরে রাসুয়া, ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। হড়পা বানের সতর্কতায় উদ্ধারকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, বিপর্যয়ের জেরে প্রায় পাঁচশো ছুঁয়ে ফেলেছে প্রাণহানির সংখ্যা। অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিক-সহ নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.