Iran America

আলোচনা ‘বানচাল’ হলেও ৬০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি, কী উঠে এল ইরান-আমেরিকার বৈঠকে?

প্রথম ৮০ মিনিট সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয় আলোচনা। বিরতির পর ফের মুখোমুখি বসার কথা ছিল দু’পক্ষের। কিন্তু তার মাঝেই লেবানন প্রসঙ্গ তুলে তেহরানকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বানচাল হয় বৈঠক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২২, ২০২৬, ১৫:৫৪

options
link
আলোচনা ‘বানচাল’ হলেও ৬০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি, কী উঠে এল ইরান-আমেরিকার বৈঠকে?
চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে এই বৈঠকে ৬০ দিনের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে তাতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

ট্রাম্পের হুমকির জেরে সিঙ্গাপুরে প্রথমদফার বৈঠক চলাকালীন মাঝপথেই চেয়ার ছেড়েছিল ইরান। যদিও জানা যাচ্ছে, এই বৈঠক একেবারে ব্যর্থ হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে এই বৈঠকে ৬০ দিনের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে তাতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এমনটাই জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও পাকিস্তান। রবিবার বারগেনস্টকে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরান, আমেরিকা, কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা।

Advertisement

মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের তরফে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে আয়োজিত হয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমস্যাগুলির সমাধানের উদ্দেশে দুই তরফেই উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বৈঠকের সবচেয়ে বড় দিক হল, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছতে একটি রোডম্যাপ অনুমোদন করা হয়েছে। যা নিয়ে শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে বলে আসা করা হচ্ছে। যে যে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে আলোচ্য বিষয়ের দ্রুত বাস্তবায়ন করা, কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝি আটকাতে দুই তরফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে।

Advertisement

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান, আমেরিকা ও লেবাননকে নিয়ে একটি যুদ্ধবিরতি সেল গঠনে সম্মত হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যপথ এবং আমেরিকা ও ইরান সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। এই কাঠামোর মাধ্যমে আমেরিকা ও ইরান একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করবে, এবং রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশ দেবে। এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান, আমেরিকা ও লেবাননকে নিয়ে একটি যুদ্ধবিরতি সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। যা লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং নতুন করে সংঘাত প্রতিরোধ করবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে কয়েকদিন আগেই একটি মউ স্বাক্ষর করেছে ইরান এবং আমেরিকা। কিন্তু সমঝোতাপত্রের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়িত এবং পর্যালোচনা করতে রবিবার সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে এক রিসর্টে মুখোমুখি বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। সূত্রের খবর, প্রথম ৮০ মিনিট সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয় আলোচনা। কিন্তু তারপর একটি বিরতি নেওয়া হয়। বিরতির পর ফের মুখোমুখি বসার কথা ছিল দু’পক্ষের। কিন্তু তার মাঝেই লেবানন প্রসঙ্গ তুলে তেহরানকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, “লেবাননে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লা এবং অন্যান্য গোষ্ঠীগুলি যদি অশান্তি না থামায়, তাহলে ইরানের উপর আবারও হামলা হবে। আর আগের তুলনায় এই হামলা হবে আরও বড়, আরও জোরদার।” ট্রাম্পের এহেন আক্রমণের পরই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ক্ষুব্ধ ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে জানা গিয়েছে, শান্তি বৈঠক সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়নি। সোমবারও ফের আলোচনায় বসবে দু’পক্ষ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.