America

শান্তি বৈঠকেই ইরানি নেতাদের হত্যার ছক ইজরায়েলের! তেহরানকে সতর্ক করে আমেরিকা

এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে আয়োজিত শান্তি বৈঠককে রক্তাক্ত করার যাবতীয় আয়োজন সেরে ফেলেছিল ইহুদি সেনা। তবে শেষ পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রে জল ঢালে আমেরিকা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১০:০২

options
link
শান্তি বৈঠকেই ইরানি নেতাদের হত্যার ছক ইজরায়েলের! তেহরানকে সতর্ক করে আমেরিকা
ইরানের নেতাদের খুনের ছক ছিল ইজরায়েলের!

মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের পর প্রথম শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানের নেতাদের খুনের ছক ছিল ইজরায়েলের! গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে আয়োজিত সেই বৈঠককে রক্তাক্ত করার যাবতীয় আয়োজন সেরে ফেলেছিল ইহুদি সেনা। তবে শেষ পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রে জল ঢালে আমেরিকা। ইরানকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কও করা হয়। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’।

Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের ষড়যন্ত্র জানতে পেরে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, ইজরায়েলের নিশানায় ছিলেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বেঘের ঘালিবাফ। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, এই দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হলে শান্তির যাবতীয় রাস্তা চিরতরে বন্ধ হবে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলিকে ইজরায়েলের পরিকল্পনার বিষয়টি জানানো হয় আমেরিকার তরফে। সেখান থেকেই এই তথ্য ইরানের কানে তোলা হয়।

Advertisement

ইজরায়েলের নিশানায় ছিলেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বেঘের ঘালিবাফ। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, এই দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হলে শান্তির যাবতীয় রাস্তা চিরতরে বন্ধ হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ইরান-আমেরিকার ও ইজরায়েলের যুদ্ধ। এরপর থেকে দেড় মাসে ইরানজুড়ে একের পর এক শীর্ষ নেতাকে যৌথভাবে খতম করে ইজরায়েল ও আমেরিকা। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, যুদ্ধের শুরুতে তাদের লক্ষ্যই ছিল ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে উৎখাত করা। তবে বিষয়টি যে সহজ হবে না তা বুঝতে পেরে আলোচনার রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। ইজরায়েল তাতে আংশিক সম্মতি দিলেও কোনও আলোচনায় হাঁটায় অনিচ্ছুকই ছিল তেল আভিভ। এই পরিস্থিতিতে যখন ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। সেখানেই ইজরায়েল পরিকল্পনা করে ইরানি নেতাদের হত্যার। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন পদক্ষেপে সে চেষ্টা সফল হয়নি নেতানিয়াহুর। বলা বাহুল্য, এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সেই বৈঠক হলেও সেখান থেকে আশাতীত কিছু উঠে আসেনি। বরং বলা ভালো সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়।

Advertisement

উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ৫ মাস পার হয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক মউ স্বাক্ষর হলও ইজরায়েলের তরফে লেবাননে লাগাতার হামলা শান্তির পথে প্রধান কাঁটা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ঘালিবাফ জানিয়েছেন, “আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতিই আমাদের অগ্রাধিকার। তবে যদি আলোচনা বাস্তবায়িত না হয়, সেক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্যও আমরা প্রস্তুত। এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপরই ইরানের বর্তমান বৈঠকগুলো কেন্দ্রীভূত। সমঝোতার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনও আলোচনায় অংশ নেবে না।” এছাড়াও পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে তিনি বলেন, “ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র যাবতীয় শর্ত পালন করা হচ্ছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক অধিকার এবং রেড লাইনগুলো নিয়ে কোনও আপোষ করা হবে না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.