যুদ্ধের জেরে ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল (Russian oil) কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন দাবির পর বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই এই ইস্যুতে মুখ খুলল হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানালেন, আমেরিকার কথা মেনে নিয়ে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল দিল্লি। তাই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘বিশেষ ছাড়’ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধের জেরে রুশ তেল কেনায় ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছে এক রিপোর্ট সামনে আসে। এই ঘটনায় মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দেশের বিরোধী শিবির। অভিযোগ ওঠে, আমেরিকার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারতকে কেন তেল কিনতে তৃতীয় পক্ষের অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে সে প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে, ভারতকে ফের রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’তে নিজের দেশেও বিতর্কের মুখে পড়েন ট্রাম্প। অভিযোগ ওঠে, যে তেলকে কেন্দ্র করে এতকিছু কেন ভারতকে সেই তেল ফের কিনতে দেওয়া হচ্ছে।
লিভিট বলেন, “আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি কারণ ভারত ভালো বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওরা রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছিল।”
বিতর্ক চরম আকার নিতেই মঙ্গলবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মার্কিন প্রেস সচিব। লিভিট বলেন, “আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি কারণ ভারত ভালো বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওরা রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছিল। কারণ ওই তেলে আমরা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। এখন ইরানের কারণে গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহ অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। যার জেরেই ভারতে কিছুদিনের জন্য রুশ তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
পাশাপাশি মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, আমেরিকা ভারতকে এই অনুমতি দিয়েছে কারণ, রুশ তেলের ট্যাঙ্কারগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রপথে ছিল। অন্য কোথাও যাওয়ার পরিবর্তে সেগুলি ভারতের বন্দরে নোঙর করতে পারে। শুধুমাত্র ওই তেলের জাহাজগুলি থেকেই তেল কিনতে পারবে ভারত। এর ফলে রাশিয়া বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাবে না বলেই মত আমেরিকার।
আমেরিকার ‘অনুমতি’ নিয়ে দেশে বিতর্ক মাথাচাড়া দিলে এই ইস্যুতে মুখ খোলে ভারত সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভারত সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। এক্ষেত্রে ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার। রিপোর্ট বলছে, ভারত তাদের মোট তেলের প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশই মেটায় আমদানি মারফত। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির হিসেব বলছে, রাশিয়া এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহকারী। দৈনিক ১০ লক্ষ ব্যারেল মস্কো থেকে আমদানি করে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ দেশের তেল আমদানির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই আসছে রাশিয়া থেকে। এই ফেব্রুয়ারিতেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের