Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Harish Rana

মৃত্যুই মুক্তি! দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়ে ১৩ বছর ধরে কোমায় আচ্ছন্ন ৩২ বছরের হরিশ রানা। এক দশকে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি। এই পরিস্থিততে হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি চায় পরিবার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৯:০৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৯:০৪

options
link
মৃত্যুই মুক্তি! দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের zoom
নিষ্কৃতিমৃত্যুর নির্দেশ দেওয়ার সময় আবেগঘন বক্তব্য রাখে দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের। দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত। দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়ে গত ১৩ বছর ধরে কোমায় আচ্ছন্ন ৩২ বছরের হরিশ রানা (Harish Rana)। গত এক দশকে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি। এই পরিস্থিততে হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি চেয়েছিল পরিবার। শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দু’টি মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ শোনার পর আবেদন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ।

হরিশ পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। এর পর থেকেই তিনি কোমাতে রয়েছেন। চিকিৎসকদের সমস্ত রিপোর্ট বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরেই আদালত হরিশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, হরিশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তার পরে ওই যুবকের অভিভাবকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার সময় হরিশের বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রশংসা করেছে। বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘দীর্ঘ ১৩ বছর তাঁরা পুত্রের পাশ থেকে সরেননি। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি- দুই মেডিক্যাল বোর্ডই জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম খাবার ও সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করাই এখন হরিশের জন্য মঙ্গলের।’’

Advertisement

এদিন নিষ্কৃতিমৃত্যুর নির্দেশ দেওয়ার সময় আবেগঘন বক্তব্যে দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলে, একজন মানুষের স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার আছে? এই প্রশ্ন মনে পড়ে মার্কিন মন্ত্রী হেনরি ওয়ার্ড বিচারের বিখ্যাত উক্তি—মানুষ জীবন চায় কিনা ঈশ্বর জানতে চায় না। বাধ্যতামূলক গ্রহণ করতে হয়। হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর রায় দিতে গিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’-এর প্রসিদ্ধ ‘টু বি অর নট টু বি’ লাইনটিও উল্লেখ করে।

ভারতে প্রত্যক্ষ মৃত্যু (অ্যাকটিভ ইউথ্যানাশিয়া) সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। বিশেষ কারণে এই নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণে ছিল হরিশের চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি এবং রোগীর পক্ষে কোনটা ভালো। হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিতে গিয়ে ২০১৮ সালের ‘কমন কজ’ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলার প্রসঙ্গ ওঠে। ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেও ছিল ঐতিহাসিক রায়।

প্রসঙ্গত, ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ইউ’ এবং ‘থানাতোস’ থেকে এসেছে। ‘ইউ’ শব্দটির অর্থ সহজ এবং ‘থানাতোস’ কথাটির মানে মৃত্যু। অর্থাৎ ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটির মানে দাঁড়াচ্ছে ‘সহজ মৃত্যু’। নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডে ইউথেনশিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কেবল মৃত্যুযন্ত্রণায় কষ্ট পাওয়া মানুষই নয়, যাঁরা কোমায় রয়েছেন বছরের পর বছর ধরে, তাঁদেরও মৃত্যুর জন্য আবেদন করেন তাঁদের স্বজনরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.