সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘বিশ্বাস রাখি চুমুতে, বিশ্বাস আশ্লেষে/বিশ্বাস রাখি ঠোঁটে ঠোঁট রেখে মরে যাওয়া ভালোবেসে।’ সুমন চুমুতে বিশ্বাস রাখলেও ধর্মের ধ্বজাধারীরা তা সহ্য করবেন কেন? প্রেমের প্রতীক সেই নিষ্পাপ চুম্বনের জেরে মৌলবাদীদের রোষানলে ইন্দোনেশিয়ার যুগল। প্রকাশ্যে ৭৬ ঘা চাবুক মারা হল দু’জনকে। ইসলামে নিষিদ্ধ সমকামী প্রেম ও চুম্বনের অপরাধে শরিয়া আইন মেনে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে দুই যুবককে।
ইসলামিক ধর্মীয় পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দুই সমকামী যুবক একটি পার্কের শৌচাগারে একে অপরকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এরপর শরিয়া আইন অনুযায়ী, তাঁদের প্রকাশ্যে ৮০ ঘা চাবুক মারার শাস্তি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য ৭৬ ঘা চাবুক ও চার মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেইমতো গত মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ প্রদেশের এক পার্কে প্রকাশ্যে ওই যুবকদের শাস্তি দেয় পুলিশ। জানা গিয়েছে, ১০ জনের একটি দল এক নাগাড়ে ৭৬ ঘা চাবুক মারে দুই ‘অপরাধী’কে।
বান্দা অঞ্চলের পুলিশ প্রধান রোজলিনা এ জলিল বলেন, গত এপ্রিল মাসে পার্কের মধ্যে যুবককে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে এক ব্যক্তি পুলিশকে খবর দিয়েছিল। এরপর স্থানীয় পুলিশ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দু’জনকে। সেই অপরাধেই এদিন অভিযুক্তদের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। ওই দুজন ছাড়াও মঙ্গলবার ওই পার্কে চাবুক মারা হয়েছে আরও ৮ জনকে। এদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও ৫ জন পুরুষ। এরা কেউ বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, কেউ অনলাইনে জুয়া খেলার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
তবে মধ্যযুগীয় এই শাস্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই বেসরকারি সংস্থা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার ও নির্যাতিতদের সুরক্ষার জন্য কাজ করে। সংস্থার পরিচালক মন্টসে ফেরার বলেন, সমকামী আচরণকে অপরাধ ঘোষণা করা মানব সমাজে ন্যায়সঙ্গত এবং গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী দমন ও দেশে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার পর ২০০১ সালে মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া দেশে শরিয়া আইন লাগু করে। এখনও সেই আইন পালন করছে দেশটি।
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা