US Iran War

যুদ্ধ চলবে! সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ফের ট্রাম্পের দাবি ওড়াল ইরান, হরমুজ বন্ধে থমকে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ

যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে চাপানউতোর বেড়েই চলেছে বিশ্বজুড়ে। সংঘাতের জেরে হরমুজে এই সময় দাঁড়িয়ে প্রায় তিন হাজার তেল এবং গ্যাসবাহী বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকে রয়েছে বলেই খবর। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা জাহাজগুলিতে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং কর্মী রয়েছেন। মৃত্যুভয় প্রতি মুহূর্তে গ্রাস করছে তাঁদের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৩:২৯

options
link
যুদ্ধ চলবে! সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ফের ট্রাম্পের দাবি ওড়াল ইরান, হরমুজ বন্ধে থমকে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ
আরও বাড়ছে যুদ্ধের ঝাঁজ। ছবি: সংগৃহীত।

আর বড়জোর দু’সপ্তাহ! এর মধ্যেই থেমে যাবে যুদ্ধ। আমেরিকার লাগাতার আক্রমণে ধসে যাবে ইরান (US Iran War)। এক দিন আগে এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, তাঁর আরও দাবি ছিল যে, তেহরানের তরফে নাকি যুদ্ধবিরতি চেয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধবিরতি চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছে আমেরিকার। কিন্তু এহেন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। সে দেশের সেনার শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনও ‘আবেদন’ করেনি তেহরান। এদিকে এরই মধ্যে লেবাননের দক্ষিণে একাধিক জায়গায় বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। পাল্টা আক্রমণ শানাচ্ছে হেজবোল্লা বাহিনীও। আল মনসুরিতে এমনই এক হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইরানকে ‘ভাতে মারতে’ এবার মার্কিন বোমারু যুদ্ধবিমান বি-৫২ কে তেহরানে পাঠাল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বি-৫২ বোমারু যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য হল, এটি র‍্যাডারে ধরা পড়ে না। এর আগে আমেরিকার একাধিক জরুরি অভিযানে এই বি-৫২ বোমারু যুদ্ধবিমানের সফল ব্যবহার হয়েছে। এবার ইরানের সামরিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো ধ্বংস করতেই এই বোমারু বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন।

Advertisement

এদিকে, যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে চাপানউতোর বেড়েই চলেছে বিশ্বজুড়ে। সংঘাতের জেরে হরমুজে এই সময় দাঁড়িয়ে প্রায় তিন হাজার তেল এবং গ্যাসবাহী বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকে রয়েছে বলেই খবর। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা জাহাজগুলিতে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং কর্মী রয়েছেন। মৃত্যুভয় প্রতি মুহূর্তে গ্রাস করছে তাঁদের। বোমা-বর্ষণ কিংবা মিসাইল হামলা তো আছেই, এর পাশাপাশি রয়েছে এতদিন জাহাজে আটকে থাকার জেরে খাবার, জল তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জোগান কমে যাওয়ার আতঙ্ক। নাবিকরা বারবার আবেদন করছেন, “আমরা এখানে মরতে চাই না। আমাদের উদ্ধার করুন। খাবার, জলের ব্যবস্থা করুন।” প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএফ)-এর নিজস্ব একটি দল রয়েছে, যারা সমুদ্রে পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের সহযোগিতা করে। হরমুজে আটকে থাকা জাহাজের এক নাবিক এক সপ্তাহ আগে আইটিএফ-কে মেল পাঠিয়ে সাহায্যের আর্জি জানান। জানা গিয়েছে, মেলের বিষয়বস্তু হল-দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় জাহাজগুলিতে মজুত খাবার এবং পানীয় জলে টান পড়তে শুরু করেছে। এইভাবেই চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে নাবিকদের।

Advertisement

অশনি সংকেত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। ইরান যেভাবে বিশ্বের সিংহভাগ দেশের জন্য হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে, তার জেরে চলতি এপ্রিল মাসে ইউরোপে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। এ কথাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তাঁর কথায়, “তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপে এবার প্রভাব পড়বেই। এপ্রিল মাসে তেলের ক্ষতি মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে, তার সঙ্গে এলএনজি-র ক্ষতিও যুক্ত হবে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জেট ফুয়েল ও ডিজেলের অভাব। এশিয়ার ইতিমধ্যেই তা লক্ষিত হয়েছে। আমার ধারণা, শীঘ্রই এপ্রিল বা মে মাসে, এই নেতিবাচক প্রভাব ইউরোপেও দেখা যাবে।” তথ্য বলছে, যুদ্ধের কারণে এখনও পর্যন্ত প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ-কেন্দ্র (তৈলকূপ ও শোধনাগার) যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.