Iran Israel War

যুদ্ধে ইজরায়েলকে সাহায্য ও অপপ্রচার! দেশদ্রোহের অভিযোগে ৩৩০০ নাগরিককে গ্রেপ্তার ইরানের

বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশদ্রোহিতার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৩২৯২ জনকে আটক করা হয়েছে।এর মধ্যে ৬৮৪ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরাসরি ইজরায়েলকে সহায়তার অভিযোগ।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১৫:২৮

options
link
যুদ্ধে ইজরায়েলকে সাহায্য ও অপপ্রচার! দেশদ্রোহের অভিযোগে ৩৩০০ নাগরিককে গ্রেপ্তার ইরানের zoom
দেশদ্রোহের অভিযোগে ৩৩০০ নাগরিককে গ্রেপ্তার ইরানের।

যুদ্ধ চলাকালীন শত্রুপক্ষের দলে ভিড়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল ইরানের একটা বড় অংশ! দেশদ্রোহিতার এমনই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ হাজারের বেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল ইরান প্রশাসন। সোমবার ইরানের বিচার বিভাগের তরফে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন শত্রু দেশকে সরাসরি সাহায্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশদ্রোহিতার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৩২৯২ জনকে আটক করা হয়েছে।এর মধ্যে ৬৮৪ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরাসরি ইজরায়েলকে সহায়তার অভিযোগ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২৫৮ জনকে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১০৬১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটও পেশ করা হয়েছে। দেশদ্রোহী সন্দেহে শত শত ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ইরানে এই ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ উঠলেও সেসবকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি ইরান।

গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ৫০ হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের বিচারবিভাগ জানিয়েছিল তারা ইসফাহান প্রদেশে ১০০ জন গদ্দারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে এর বেশি আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ৫০ হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ভিন্নমতাদর্শীদের উপর ভয়ংকর দমন-পীড়ন চালায় সেখানকার প্রশাসন। এই পরিস্থিতির মাঝে তেহরানের দাবি, ইরানের এমন বহু নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা যুদ্ধের চরম পর্যায়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় সাহায্য করেছিল।

এদিকে ইরানের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। গত মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফে জানানো হয়েছে, তথাকথিত যুদ্ধপরিস্থিতির আড়ালে বেলাগাম গ্রেপ্তারি, ভুয়ো বিচারপ্রক্রিয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মাধ্যমে ভিন্নমতাদর্শীদের এভাবেই দমন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নরওয়ের এক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, চলতি বছরের শুরু থেক ৮ জুন পর্যন্ত ইরানে ১৯ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ৪০ জন বন্দীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন