Iran War

এবার ইরানের হামলার মুখে মার্কিন গোয়েন্দারা, জোড়া ড্রোনের ‘ছোবলে’ জতুগৃহ রিয়াধের সিআইএ দপ্তর

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শনিবার গভীর রাতের হামলায় সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ-র দপ্তরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে পর পর দু'টি ড্রোন আছড়ে পড়ে সেখানে। যদিও এই বিষয়ে পেন্টাগন সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১৬:৪৯

options
link
এবার ইরানের হামলার মুখে মার্কিন গোয়েন্দারা, জোড়া ড্রোনের ‘ছোবলে’ জতুগৃহ রিয়াধের সিআইএ দপ্তর
সিআইএ দপ্তরের হামলার কথা স্বীকার করেছে সৌদির প্রতারক্ষা মন্ত্রক।

রবিবার ৩৭ দিনে পড়ল ইরান যুদ্ধ। আমেরিকা-ইজরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের লাগাতার হামলার পরেও পালটা হামলায় তেহরান বুঝিয়ে দিচ্ছে— তারা ভাঙলেও মচকাতে রাজি নয়। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরে হামলা চালাল তারা। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শনিবার গভীর রাতের হামলায় সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ-র দপ্তরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে পর পর দু’টি ড্রোন আছড়ে পড়ে সেখানে। যদিও এই বিষয়ে পেন্টাগন সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি।

Advertisement

ইরানে ঢুকে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে উদ্ধার নিয়ে দাবি, পালটা দাবির মধ্যেই রবিবার জানা গিয়েছে, রিয়াধে সিআইএ-র দপ্তরে হামলা চালিয়েছে তেহরান। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রোন হামলায় মার্কিন দূতাবাসের একাংশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে, সিআইএ-র দপ্তরের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। যদিও নির্দিষ্ট ভবনটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পেন্টাগন এবং স্থানীয় প্রশাসন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয় মার্কিন দূতাবাসের যে সিআইএ-র দপ্তরকে, সেখানে ড্রোন হামলা হল কীভাবে? তবে কি মার্কিন প্রযুক্তিকেও পিছনে ফেলে দিচ্ছে ইরান?

Advertisement

এদিকে ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে পড়তে হয় মার্কিন যোদ্ধাদের। এই অভিযানে আসা একাধিক মার্কিন বিমানকে নিশানা করা হয়। ইরানি সেনার হামলায় দক্ষিণ ইসফাহানে মার্কিন সেনার একটি সি-১৩০ বিমানকে গুলি করে নামানো হয়। শুধু তাই নয়, আইআরজিসির তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দুটি ব্ল্যাক হোক হেলিকপ্টারকে ধ্বংস করেছে। এছাড়া ইজরায়েলের দুটি ড্রোনও ধ্বংস হয়েছে এই অভিযানে। অর্থাৎ ইরানের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে পাইলট উদ্ধারে নেমে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে আমেরিকা।

Advertisement

অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনার অভিযানে এবং তাদের এলোপাথাড়ি বোমাবর্ষণে ইরানের ৫ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গত রাতে আমেরিকা কোহ-ই-সিয়াহ এলাকায় তাদের পাইলটের সন্ধানে নেমেছিল। সেখানেই গোলাগুলি চলাকালীন মৃত্যু হয় ৫ জনের। নিহত সকলেই কোহগিলুয়ে এবং বোয়ের আহমদ প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানে অপারেশনে গিয়ে ভেঙে পড়ে আমেরিকার দুই যুদ্ধবিমান। সেদিনই একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, আমেরিকার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইরানের তরফেও ওই পাইলটকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর রবিবার সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, দুঃসাধ্য সেই অভিযান সফল হয়েছে। ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে পাইলটকে। পাইলটকে উদ্ধার করতে এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ ‘জলি গ্রিন টু’ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ অ্যাটাক জেট, একটি এইচসি-১৩০ উদ্ধারকারী মিড-এয়ার ট্যাংকার, এফ-৩৫ স্টেলথ জেট, স্পেশাল ফোর্সেস এবং অনুসন্ধানকারী দলের বিশেষ ইউনিট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.