তেল অতীত। মধ্যপ্রাচ্যে এবার ‘জলযুদ্ধ’ শুরু করে দিল ইরান। সোমবার কুয়েতের জল পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, বাহরিন, কাতার, ওমান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জলশোধনাগারগুলিতে ইতিমধ্যেই হামলার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করেছে ইরান।
আরও পড়ুন:
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিশোধনাগারগুলিই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই দেশগুলির প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জল সরবরাহ এই কেন্দ্রগুলির উপরই নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের জল সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলে ইরান আসলে এই পরিকাঠামোগুলিতে আঘাত হেনে দেশগুলিকে শুকিয়ে মারতে চাইছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এটি শুধুমাত্র সামরিক হামলা নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি। কারণ, তেল বা সামরিক ঘাঁটির উপর আঘাত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে, কিন্তু পানীয় জলের উৎসে আঘাত হানলে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়। এর ফলে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু বড় উদ্বেগের বিষয় হল – মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির অধিকাংশের কাছেই সীমিত সময়ের জন্য পানীয় জলের মজুত থাকে। ফলে বড় কোনও জলপরিশোধনাগার অচল হয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তা মানবিক সংকটে পরিণত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যেখানে জল একটি কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্ত বা আকাশে সীমাবদ্ধ। ছড়িয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সম্পদেও।
সর্বশেষ খবর
-
আরটিআইয়ের বাইরে স্বরাষ্ট্র দপ্তর, নির্দেশিকা জারি করেও বাতিল, বিরোধিতার মুখে পিছু হটলেন বিজয়
-
দর্শকদের না-পসন্দ! এবার ‘বিস বস বাংলা’ থেকে ছিটকে গেলেন তাপসকন্যা সোহিনী
-
‘হঠাৎ বিকট শব্দ’, হুড়মুড়িয়ে ভাঙল জানলার কাচ! এবার প্রিমিয়াম রাজধানী এক্সপ্রেসেও ইটবৃষ্টি
-
ঘর মোছার জলে দিন…, পুজোর আগেই বাড়ি থেকে দূর হবে নেগেটিভ এনার্জি
-
শহর ছেয়েছে হোর্ডিংয়ে, সাম্বার ছন্দে পা মেলাতে তৈরি কলকাতা, কী কী থাকছে ভিনিদের প্লেটে