Asim Munir

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এখন ‘হাতের পুতুল’, বকলমে শাসক কি সেনাপ্রধান মুনিরই? জানালেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

গত কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচিত সরকারের চেয়ে সেনাবাহিনীর শক্তি বেড়েছে পাকিস্তানে। শক্তি বেড়েছে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের। পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসাবে সম্প্রতিই তাঁকে নিয়োগ করেছে পাকিস্তান সরকার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৭:৩০

options
link
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এখন ‘হাতের পুতুল’, বকলমে শাসক কি সেনাপ্রধান মুনিরই? জানালেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
(বাঁ দিকে) শাহবাজ শরিফ এবং আসিম মুনির।

গত কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচিত সরকারের চেয়ে সেনাবাহিনীর শক্তি বেড়েছে পাকিস্তানে। শক্তি বেড়েছে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের। পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসাবে সম্প্রতিই তাঁকে নিয়োগ করেছে পাকিস্তান সরকার। এই সিদ্ধান্তের জেরে সেনাপ্রধানের হাতে দেশের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে আপত্তি থাকলেও দেশের অন্দরে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠা মুনিরের পদোন্নতিতে এক রকম বাধ্যই হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেনাকে না চটিয়ে গদিতে থাকতে মরিয়া পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও এই নিয়োগে সম্মতি জানিয়েছেন। তখন থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তা হলে শাহবাজকে ‘হাতের পুতুল’ করে রেখে বকলমে শাসক হয়ে উঠেছেন মুনির? সেই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ।

Advertisement

‘ফ্রান্স ২৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, “পাকিস্তানে সেনাশাসনের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫০-৬০-এর দশক থেকেই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা দেখা যায় সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। এমন সময়ও ছিল, যখন সেনা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না।” সেনাবাহিনী সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য, “এটা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার বিষয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তারা নির্বাচিত সরকারকে সহায়তা করছে। আমি একে ‘হাইব্রিড সরকার’ বলি।” তবে আসিফের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মুহূর্তে পাকিস্তানে কোনও সেনা শাসন নেই। সেনাপ্রধান মুনিরও যে তাঁর বস নন, তা-ও স্পষ্ট করে দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

Advertisement

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে পাক সেনার প্রধান হওয়ার পর থেকেই নিজের ক্ষমতা আরও বাড়াতে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও ভারত-বিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে পুরোদমে মদত দিতে শুরু করেছিলেন মুনির। চলতি বছর এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাধারণ পর্যটকদের উপর পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলার পরেই পাকিস্তানে থাকা জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানে পাক জঙ্গিদের বহু ঘাঁটি ধ্বংস এবং শতাধিক জঙ্গির মৃত্যুর পাশাপাশি পাক সেনারও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু তার পরেও পাক সেনা এবং সরকারে আরও ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন মুনির।

Advertisement

গত বছর ২০ মে আয়ুব খানের পরে পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। কিন্তু তাতেও হয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের একাধিক সাক্ষাৎ এবং ট্রাম্পের প্রশংসা তাঁকে পাকিস্তানে আরও ক্ষমতাধর করে তোলে। যার জেরে গত মাসেই সংবিধান সংশোধন করে মুনিরের যে কোনও অপরাধ বা প্রশাসনিক অভিযোগের ক্ষেত্রে আজীবন আইনগত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। তখনই জল্পনা শুরু হয়, মুনিরকে দেশের প্রথম সিডিএফ হিসেবে নিয়োগ করা হবে। যদিও পাক প্রধানমন্ত্রীর এতে আপত্তি ছিল বলে সরকারি একটি সূত্রে জানানো হয়েছিল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.