Hormuz

ইরানের ‘দাদাগিরি’তে বিরক্ত, হরমুজ এড়িয়ে নয়া বাণিজ্যপথের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি!

আর সমুদ্র নয়, এবার বন্ধু দেশের বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে বাণিজ্যের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, আমিরাত, ওমানের মতো দেশগুলি। এদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তুরস্কও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ২১:১১

options
link
ইরানের ‘দাদাগিরি’তে বিরক্ত, হরমুজ এড়িয়ে নয়া বাণিজ্যপথের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি!
হরমুজ এড়িয়ে নয়া বাণিজ্যপথের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি!

হরমুজে ইরানের একছত্র আধিপত্যে শিকেয় উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে এখন বিকল্প পথের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি। রিপোর্ট বলছে, আর সমুদ্র নয়, এবার বন্ধু দেশের বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে বাণিজ্যের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, আমিরাত, ওমানের মতো দেশগুলি। এদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তুরস্কও।

Advertisement

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধে জেরে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির। একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তো অন্যদিকে অর্থনৈতিক ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশই বাণিজ্যের জন্য হরমুজ ও লোহিত সাগরের উপর নির্ভরশীল। তবে হরমুজে তালা ঝুলিয়েছে ইরান, লোহিত সাগরও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে হাউথিরা। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে লোহিত সাগরের সহজ রাস্তা ছেড়ে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজকে আরব সাগরে আসতে হয়েছে আফ্রিকা ঘুরে। মধ্যপ্রাচ্যের সব জলপথ এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি ও রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়েছে।

Advertisement

পারস্য উপসাগর এড়িয়ে আমিরশাহী ও ওমানের বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে সেগুলি সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে রেলপথে জর্ডানে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর মিশর থেকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সমস্যা সমাধানে আরব দেশগুলি জলপথ এড়িয়ে স্থলপথের দিকে নজর দিতে শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে পারস্য উপসাগর এড়িয়ে আমিরশাহী ও ওমানের বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে সেগুলি সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে রেলপথে জর্ডানে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর মিশর থেকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাঠানো হবে। এছাড়াও, সিরিয়ার বন্দরগুলোও ব্যবহার করা হবে এক্ষেত্রে। সড়কপথকে গুরুত্ব দিয়ে চলবে আমদানি ও রপ্তানি। ইতিমধ্যেই সে কাজে অগ্রসরও হয়েছে দেশগুলি। যেমন, জর্ডান পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আমিরশাহীর ফুজাইরা থেকে খোর ফাক্কান বন্দর পর্যন্ত রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই সৌদি আরব হরমুজ এড়াতে তাদের দক্ষিণাঞ্চলের পাইপলাইন চালু করেছে। পাশাপাশি নিওম বন্দরকে সরাসরি সুয়েজ খাল এবং ইরাক-সহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী পণ্য পরিবহন পথ চালু করেছে। যা আম্মান ও দামেস্ক হয়ে জেড্ডাকে ইস্তানবুলের সঙ্গে সংযুক্ত করে। সম্প্রতি জেড্ডায় জিসিসি-র বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা একমত হয়েছেন সৌদি আরবকে আমিরশাহী, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরিনকে রেলপথে জুড়ে দিতে। এর মাধ্যমে সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশগুলির মধ্যে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে বলে আশা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.