Venezuela's earthquake

২ ফুট সরেছে জমি! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প বদলে দিয়েছে বিশ্ব মানচিত্র, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

এবার ইসরো ও নাসার যৌথ মিশনে 'নিসার' প্রকাশ করল 'আশ্চর্যজনক' একাধিক ছবি ও তথ্য, যা দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৬:২২

options
link
২ ফুট সরেছে জমি! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প বদলে দিয়েছে বিশ্ব মানচিত্র, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

গত মাসে ভেনেজুয়েলায় পরপর দু’বার ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুমিছিল। গোটা শহরের মানচিত্রটাই কার্যত বদলে গিয়েছে। তবে এই ভূমিকম্পে শুধু প্রাণঘাতী বা স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এই বিপর্যয়ের জেরে বদলে গিয়েছে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের অবস্থানও! এবার ইসরো ও নাসার যৌথ মিশনে ‘নিসার’ প্রকাশ করল ‘আশ্চর্যজনক’ একাধিক ছবি ও তথ্য, যা দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের তথ্য বলছে, ভূমিকম্প পরবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ২ ফুট বা ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত সরে গিয়েছে মাটি। এই প্রথম বড় কোনও বিপর্যয়ের পর ইসরো ও নাসার যৌথ মিশন ‘নিসার’ এমারজেন্সি রেসপন্স অবজারভেশন সিস্টেম ব্যবহার করে দ্রুত রাডার তথ্য সংগ্রহ করেছে।

জুন মাসে পরপর দু’টি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারাকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। ঠিক তার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে আরও একটি শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এটির উৎসস্থলও ওই একই জায়গায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। এক মিনিটেরও কম সময়ে এমন জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যায় চারপাশ।

Advertisement

ভূমিকম্পের পরেই ‘নিসার’ মিশনের অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাডার চিত্র সংগ্রহ শুরু হয়। ভূমিকম্পের আগে ও পরে তোলা চিত্রের তুলনা করে নির্ণয়, কোথায় এবং কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা বিবেচনা করেন বিজ্ঞানীরা। INSAR প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে তোলার রাডার চিত্রের বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একাধিক এলাকায় মাটি তার আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে গিয়েছে।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভূমিকম্পের কারণ ছিল ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট’। এই ধরনের ভূমিকম্পে দুটি টেকটোনিক প্লেট একে অপরের থেকে বিপরীতে সরে যায়। এই ঘটনায় ক্যারিবিয়ান টেকটোনিক প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে সেই ধরনের সঞ্চালন হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভূমিকম্পের কারণ ছিল ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট’। এই ধরনের ভূমিকম্পে দুটি টেকটোনিক প্লেট একে অপরের থেকে বিপরীতে সরে যায়। এই ঘটনায় ক্যারিবিয়ান টেকটোনিক প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে সেই ধরনের সঞ্চালন হয়ে বলে মত বিজ্ঞানীদের। সবচেয়ে বেশি ভূমি সরে যাওয়ার ঘটনা রাজধানী কারাকাসের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে মাটি প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত সরে গিয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.