Pakistan

লাহোরের ইসলামপুরার নাম বদলে হবে না কৃষ্ণনগর! মৌলবাদীদের রোষে পিছু হটল পাক সরকার

গত ২০ মে পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক জায়গার অতীত হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনা হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামবদল করা হয় লাহোরের বহু জায়গা ও রাস্তাঘাটের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০২৬, ১০:০৬

options
link
লাহোরের ইসলামপুরার নাম বদলে হবে না কৃষ্ণনগর! মৌলবাদীদের রোষে পিছু হটল পাক সরকার
মৌলবাদীদের কোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।

লাহোরের অতীত ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে সেখানকার একাধিক জায়গার পুরনো নাম ফিরিয়ে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ। তবে মৌলবাদীদের কোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। কট্টরপন্থী ও ব্লগারদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নামবদলের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে বাবরি মসজিদ চকের নাম আর জৈন মন্দির রোড হবে না।

Advertisement

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের অন্তর্গত লাহোর। দেশভাগের আগে এই অঞ্চল ছিল হিন্দু অধ্যুষিত। ফলে এখানকার কার্যত সমস্ত জায়গার নামে ছিল হিন্দুত্বের ছোঁয়া। তবে জিন্নার নয়া দেশে একে একে বদলে ফেলা হয় সেখানকার নাম। তবে লাহোরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ নেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ। গত মার্চ মাসে এক বৈঠক ডেকেছিলেন মারিয়ম। সেখানেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন লাহোরের পুরনো ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। গত ২০ মে পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক জায়গার অতীত হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনা হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামবদল করা হয় লাহোরের বহু জায়গা ও রাস্তাঘাটের।

Advertisement

বহু মৌলবাদী নেতা ও ব্লগাররা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন। বলা হয়, এই সরকার ওই সমস্ত অঞ্চলের হিন্দু ও শিখ ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার পরই ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় পাকিস্তানে। বহু মৌলবাদী নেতা ও ব্লগাররা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন। বলা হয়, এই সরকার ওই সমস্ত অঞ্চলের হিন্দু ও শিখ ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যের প্রতি অবজ্ঞা। মারিয়ম সরকারের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি না দেওয়া হলেও শোনা যাচ্ছে, সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছু হটেছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, যে সব জায়গাগুলির অতীত হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইসলামপুরের নাম বদলে রাখা হয় কৃষ্ণনগর, সুন্নতনগর হয় সন্তনগর, মৌলানা জাফর চকের নতুন নাম রাখা হয় লক্ষ্মী চক, বাবরি মসজিদ চকের নাম বদলে হয় জৈন মন্দির চক, মুস্তফাবাদ হয় ধর্মপুরা। এছাড়াও, স্যার আগা খান চকের পরিবর্তে নাম রাখা হয় ডেভিস রোড, আল্লামা ইকবাল রোড হয় জেল রোড, ফতিমা জিন্না রোড বদলে হয় কুইন রোড, বাঘ-ই-জিন্না রাস্তার নতুন নাম হয়েছিল লরেন্স রোড। তবে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হল। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.