Donald Trump

খামখেয়ালি ট্রাম্পের নীতিপুলিশি! রুশ তেল কেনায় শুল্কবাণকে তুলোধোনা করে কড়া বার্তা জয়শংকরের

জয়শংকরের কথায়, 'যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়।'

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২৬, ১৩:৩৫

options
link
খামখেয়ালি ট্রাম্পের নীতিপুলিশি! রুশ তেল কেনায় শুল্কবাণকে তুলোধোনা করে কড়া বার্তা জয়শংকরের
ফিনল্যান্ডের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে আমেরিকাকে তুলোধোনা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ফিনল্যান্ডের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়শংকর সাফ জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির মধ্যে কোনও উদারতা নেই। তাই ভারত যদি রুশ তেল কেনে, সেটাকে রাশিয়ার প্রতি পক্ষপাতিত্ব হিসাবে ধরে নেওয়া যায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালিপনাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন জয়শংকর।

Advertisement

২০২২ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। যদিও জার্মানির মতো বহু দেশেই রুশ গ্যাস আমদানি এখনও অব্যাহত। রুশ গ্যাস না থাকলে জার্মানি কার্যত অচল হয়ে পড়বে, এমনটাই শোনা যায়। সেসময়ে কমদামে রুশ তেল কেনা শুরু করে ভারত। হুহু করে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রথম থেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা। কিন্তু নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যেখান থেকে তেল আমদানি লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছেন জয়শংকর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে সতর্ক করার আগে পশ্চিমি দেশগুলি নিজেরা যেন রুশ পণ্য পুরোপুরি বয়কট করে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নাম না করে জয়শংকরের খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্রাম্প যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর। 

সেই ছবিটা পালটাতে শুরু করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর। গতবছর আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প, রুশ তেল কেনার ‘অপরাধে’। তারপর স্পষ্ট জানান, তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ইউক্রেনে হত্যালীলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সেকারণেই রুশ তেল আমদানিকারী দেশগুলিকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হবে। ভারতকে ‘নির্দেশ’ দেন ট্রাম্প, রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ। তেলের বাজার একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেসময়ে ভারতকে রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’ও দেয় আমেরিকা।

Advertisement

এই গোটা বিষয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনাই প্রমাণ হয় বলে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন জয়শংকর। তিনি বলেন, “প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হল। তারপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেওয়া হল। তাই তেল কেনাবেচার সঙ্গে নৈতিকতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলি অহেতুক জড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।” নাম না করে জয়শংকরের খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্রাম্প যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.