Myanmar army

বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শুরু মায়ানমারের সেনা অভিযান, ফের আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

ফের প্রচুর মানুষ দেশ ছেড়ে পালাবে বলে আশঙ্কা মানবাধিকার সংস্থাগুলির।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২০, ১৯:০৬

options
link
বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শুরু মায়ানমারের সেনা অভিযান, ফের আতঙ্কে রোহিঙ্গারা
রাখাইনের গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে মায়ানমার সেনা

সুকুমার সরকার: রোহিঙ্গাদের মতো রাখাইন প্রদেশে এবার বিদ্রোহী আরাকান আর্মি (Arakan army) -এর বিরুদ্ধেও সেনা অভিযান শুরু করেছে মায়ানমার। এই খবর পাওয়ার পরেই সেখানকার হাজার হাজার গ্রামবাসী রোহিঙ্গাদের মতোই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

Advertisement

মায়ানমারের একটি মানবাধিকার সংস্থা সূত্রে খবর, দেশের সেনাকর্মীরা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযানের’ পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কয়েক ডজন গ্রাম প্রধানকে এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেই লোকজন পালাতে শুরু করেছে। শনিবার রাতে মায়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত বিষয়ক কর্মকর্তারা একটি উচ্ছেদ আদেশ জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: পাকিস্তানেই জামাই আদরে রয়েছে মুম্বই হামলার চক্রী সাজ্জাদ মীর, প্রকাশ্যে আস্তানার হদিশ]

রাথেডাং পৌরসভার প্রশাসক অং মাইন্ট থেইনের স্বাক্ষরিত চিঠিটিতে গ্রাম প্রধানদের বলা হয়েছে, পুরসভার কায়ুকতান গ্রাম ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এমন সন্দেহে সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলি ওই গ্রামগুলিতে শুদ্ধি অভিযান চালাবে। অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যদি লড়াই শুরু হয় তাহলে গ্রামে না থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে থাকবেন।

Advertisement

এখানে সন্ত্রাসী বোঝাতে আরাকান আর্মিকে বোঝানো হয়েছে। তারা রাখাইন (Rakhine) প্রদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যারা আরাকান নামে পরিচিত রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের অধিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের জন্য লড়াই করে চলছে। ওই চিঠিটিতে বর্ণিত ‘শুদ্ধি অভিযান’ বলতে ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে রাথেথাং পুরসভার প্রশাসক নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে কয়েক ডজন গ্রামে অভিযান চালানো হবে বলে উল্লেখ করেছে বলেও জানিয়েছেন মায়নামার সরকারের এক মুখপাত্র মিন থান। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কয়েক ডজন না মাত্র কয়েকটি গ্রামে সপ্তাহ খানেক ধরে অভিযান চালানো হবে। ওই গ্রামে যারা রয়ে যাবে তারা আরাকান আর্মির অনুগত বলে মনে করা হবে।

শনিবার মায়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতাই ফেসবুকে পোস্ট করেন, সরকার সামরিক বাহিনীকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ পরিভাষাটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু, তারা এই নামেই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এদিকে নতুন অভিযানের আশঙ্কায় কায়ুকতান থেকে ৮০ জন লোক রাথেডাং পৌরসভার অন্য এলাকায় চলে গিয়েছে। সেনাবাহিনী তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

[আরও পড়ুন: করোনার ‘দ্বিতীয়’ ধাক্কার আশঙ্কা চিনে, রাজধানী বেজিংয়ের অর্ধেকের বেশি এলাকায় জারি লকডাউন]

মানবাধিকার সংস্থা রাখাইন এথনিক কংগ্রেসের সম্পাদক জ জ হতুন জানিয়েছেন, অন্তত এক হাজার ৭০০ লোক পার্শ্ববর্তী পন্নাগিয়ুন পুরসভায় পালিয়ে গিয়েছে। আরও এক হাজার ৪০০ লোক আশপাশের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে তারা তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে। ব্রিটেন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, কায়ুকতান এলাকায় রোহিঙ্গা, রাখাইন-সহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বাস করে। সেখানকার বৌদ্ধ নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিদ্রোহী দল হল আরাকান আর্মি। তাদের সঙ্গে মায়ানমার সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে। আর হাজার হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.