অজ্ঞাত হামলায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান। শুক্রবার তার শেষকৃত্যে দেখা গেল জেহাদিদের ভিড়। জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে আল বদরের প্রধান বখত জামিন খানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নজরে পড়ল হামজার শেষকৃত্যের প্রার্থনায়।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার মুজাফ্ফরবাদে একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক হামজাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। সেই হামলায় মৃত্যু তার। পুলওয়ামার বাসিন্দা হামজা ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করে। হামজার আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার। শুক্রবার তাকে কবর দেওয়া হয়েছিল ইসলামাবাদে। সম্প্রতি সেই শেষকৃত্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গিয়েছে, ভারত শত্রু একাধিক শীর্ষ জঙ্গির পাশাপাশি পাকিস্তানের আইএসআই-এর শীর্ষ কর্তাদের। জানাজার নমাজকে কেন্দ্র করে ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। বিশেষ করে আল বদর প্রধান জমিন খানের চারপাশে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের ভিড় চোখে পড়ে।
জঙ্গি হামজার জানাজায় দেখা গিয়েছে, ভারত শত্রু একাধিক শীর্ষ জঙ্গির পাশাপাশি পাকিস্তানের আইএসআই-এর শীর্ষ কর্তাদের।
পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্ম হামজার। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে পাকিস্তানে পাড়ি দেয়। সেখানেই সে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে সে কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। এরপর সে পুলওয়ামায় ফিরে আসে। সেখানেই যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি বানানোর কাজে নিয়োজিত হয়। জানা যায়, পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত হামজার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। পুলওয়ামা হামলা ছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল হামজা। পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামজা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ছদ্মবেশে বসবাস করছিল, সেখানে শিক্ষকতার কাজ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, হামজা ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে মুজাফফারাবাদের একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সেই কলেজের সামনেই গুলিতে মৃত্যু হয় হামজার।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সেনা জওয়ান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সেই হামলার দগদগে স্মৃতি এখনও টাটকা। ভারতের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই জঙ্গি হামলার নেপথ্যে প্রশাসনের ভূমিকা আজও প্রশ্নাতীত নয়। এত বড় হামলা কীভাবে ঘটল, এত বিস্ফোরক কীভাবে এল? এমন বহু প্রশ্ন নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!