আশায় বুক বাঁধছে গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মতো ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবার বাস্তবায়িত হবে। খুলে যাবে হরমুজ প্রণালী। স্বাভাবিক হবে ভারত-সহ অসংখ্য দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি। কিন্তু সেগুড়ে বালি। সোমবার ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-জিভির জানিয়ে দিলেন, ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে ইজরায়েল। কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, ট্রাম্পের কথা মেনে লেবানন ও ইরানে হামলা থামাবে না তারা। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামা আদৌ সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
ইজরায়েল ঠিক সেই সময় বেঁকে বসল, যখন মোটের উপর ঐক্যমতে পৌঁছেছে ইরান ও আমেরিকা। পারমাণবিক চুক্তি, বাজেয়াপ্ত সম্পদে ছাড় এমনকী ইরানের উপর এত বছর ধরে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেবে আমেরিকা। ইরানের এক সরকারি আধিকারিকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে রয়টর্সের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালাবে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। সব ঠিক থাকলে ১৯ জুন, শনিবার সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
এমন সময় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য নিরাপত্তার স্বার্থকে কোনওভাবেই গৌণ করবে না ইজরায়েল। এর পর সরাসরি মন্তব্য করেন ইতামার বেন-জিভির। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নই আমরা। ইজরায়েল আমেরিকার অধীন নয়, আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।” তিনি যুক্তি দেন, হেজবোল্লা ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে ইজরায়েলের। যোগ করেন, “আমরা জোর দিয়ে বলছি যে আমেরিকাকে ভালোবাসি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ। তা সত্ত্বেও ইজরায়েল পদদলিত রাষ্ট্র নয়।” দীর্ঘ পোস্টে ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, “যতবারই আমরা ইজরায়েলের নিরাপত্তার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছি, ততবারই রক্তের বিনিময়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের।”
উল্লেখ্য, গতকাল একদিকে যেমন ট্রাম্প ‘বন্ধু’ ইজরায়েলকে হুঁশিয়ারি দেন, শান্তির দোরগোড়ায় আমরা। কোনওভাবে আর হামলা চালানো যাবে না ইরান কিংবা লেবাননে। অপরপক্ষে ইরানকেও তিনি লেবাননে হামলার পালটা জবাব দিতে বারণ করবেন বলেও জানান। যদিও সোমবার ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রীর বিবৃতির পর শান্তিচুক্তি আরও একবার ভেস্তে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই অবস্থায় ট্রাম্প কী পদক্ষেপ করেন, সেটাই এখন দেখার।
সর্বশেষ খবর
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের