Ukraine

ইউক্রেনের ‘ডাইনি সেনায়’ তটস্থ রাশিয়া! ছলনাময়ী সুন্দরীদের ফাঁদে প্রাণ খুইয়েছেন বহু রুশ জওয়ান

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জেলেনস্কির অন্যতম ভরসার বাহিনী হল 'ডাইনি বাহিনী'। ইউক্রেনের ভাষায় যাদের বলে 'ভিডমা'। তাঁদের বুদ্ধিমত্তায় যুদ্ধের ময়দানে নাজেহাল হতে হচ্ছে রাশিয়াকে।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৭:০৭

options
link
ইউক্রেনের ‘ডাইনি সেনায়’ তটস্থ রাশিয়া! ছলনাময়ী সুন্দরীদের ফাঁদে প্রাণ খুইয়েছেন বহু রুশ জওয়ান zoom
যুদ্ধে ইউক্রেনের ডাইনি সেনায় তটস্থ রাশিয়া।

৪ বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধের শুরুটা হয়েছিল তীব্র প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। তবে সময় যত গড়িয়েছে গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে, বদলেছে যুদ্ধের কৌশল। সম্মুখ সমরের বদলে প্রযুক্তি, বুদ্ধিমতা ও ফাঁদ পেতে শিকার ধরার মতো অভিনব সব পদ্ধতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে শুরু করেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জেলেনস্কির অন্যতম ভরসার বাহিনী হল ‘ডাইনি বাহিনী’। ইউক্রেনের ভাষায় যাদের বলে ‘ভিডমা’। তাঁদের বুদ্ধিমত্তায় যুদ্ধের ময়দানে নাজেহাল হতে হচ্ছে রাশিয়াকে। মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য সেনা জওয়ানের।

ইউক্রেনের লোকগাঁথায় ‘ভিডমা’ হল সেই নারী, যারা অজানা জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী। বিশেষ মহিলাদের দ্বারা নির্মিত এই বাহিনী গোপনে সহায়তা করছে ইউক্রেন সেনাকে। রুশ অধিকৃত এলাকা থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহে অন্যতম ভরসার হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের এই ফৌজ। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি রুশ দ্বারা অধিকৃত ইউক্রেনের এক জায়গায় এক রুশ সেনা গোপন হামলার শিকার হন। এর নেপথ্যে ছিল এই ভিডমারা। ওই রুশ সেনার সঙ্গে নিঃসঙ্গ এক ইউক্রেনীয় গৃহবধূর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। জওয়ানের যুদ্ধ জীবনের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার মতো গল্প করতেন তাঁরা। ওই গৃহবধূ একদিন তার ছবি দেখতে চান। সরল বিশ্বাসে ওই জওয়ান নিজের ছবি পাঠান। ছবির ব্যাকগ্রাউন্টে আবছাভাবে মানচিত্রের ছবি দেখা যায়। এর ঠিক পরই ওই জায়গায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনা নতুন কিছু নয়, চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন নিজের যুদ্ধের কৌশল সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে চলছে হামলা। ইউক্রেনের পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য লেসিয়া ওরোবেটস সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ভিডমাদের সম্মান করেন তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য। এই ভিডমা বাহিনীতে যারা নিযুক্ত সেইসব মহিলারা রাশিয়ায় ঢুকে হাসপাতাল, স্কুল-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। যুদ্ধের জেরে ইউক্রেন থেকে চলে গেলেও এই প্রতিরোধ বাহিনীর অন্যতম সদস্য হয়ে ওঠা পেত্রো আন্দ্রিউশচেঙ্কো বলেন, মহিলারা এমন বহু জায়গায় যেতে পারেন, যেখানে পুরুষদের পক্ষে যাওয়া কঠিন। ফলে এই যুদ্ধে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনের মানুষ ভিডমাদের সম্মান করেন তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য। এই ভিডমা বাহিনীতে যারা নিযুক্ত সেইসব মহিলারা রাশিয়ায় ঢুকে হাসপাতাল, স্কুল-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রোকসানা নামে এক মহিলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, খেরসানের এক হাসপাতালে কাজ করা এই যুবতী রুশ আগ্রাসনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে বিদেশে থাকাকালীন ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য কাজ করছেন তিনি। কোথায় হামলা চালাতে হবে, সেই জায়গার নকশা-সহ সমস্ত খুঁটিনাটি তিনি পাঠান ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের। সেই মতো চলে হামলা। অনেক জায়গায় আবার সোশাল মিডিয়ায় মহিলা পরিচয়ে রুশ জওয়ানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান ইউক্রেনের গোয়েন্দারা। সংগ্রহ করেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইউক্রেনিয়ান উইমেনস গার্ডের প্রধান ওলেনা বিলেতস্কা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তাঁর বাহিনীতে বহু মহিলাকে আত্মরক্ষা, বেঁচে থাকা এবং যুদ্ধের কৌশল শেখানো হয়েছিল। বর্তমানে অধিকৃত অঞ্চলে তাঁরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।

বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অনলাইনে কথোপকথন চলাকালীন রুশ সেনার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মারিউপোলের কর্মরত সেস্ত্রা নামের এক তরুণী বলেন, “আমরা চাই আমাদের মাটিতে পা রাখা প্রত্যেক রুশ সেনা সর্বদা সন্দেহ ও ভয়ের মধ্যে থাকুক। বাজারের বয়স্ক মহিলা, বাসচালক, ক্লিনিকের ডাক্তার, সাধারণ পথচারীর প্রত্যেকের মধ্যে সে যেন নিজের মৃত্যু দেখতে পায়।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন