Ukraine

সেনা নয়, রোবট পাঠিয়ে রুশ ঘাঁটি দখল! রক্তপাতহীন যুদ্ধে বিরাট সাফল্য ইউক্রেনের

যুদ্ধ আর মানব সেনার লড়াই নয়! লড়াই এখন যন্ত্রে। রণক্ষেত্রের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে রক্তপাতহীন এই যুদ্ধেই বিরাট সাফল্য অর্জন করল ইউক্রেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১৬:৪৬

options
link
সেনা নয়, রোবট পাঠিয়ে রুশ ঘাঁটি দখল! রক্তপাতহীন যুদ্ধে বিরাট সাফল্য ইউক্রেনের
ইউক্রেনের রোবট যোদ্ধা।

যুদ্ধ আর মানব সেনার লড়াই নয়! লড়াই এখন যন্ত্রে। রণক্ষেত্রের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে রক্তপাতহীন এই যুদ্ধেই বিরাট সাফল্য অর্জন করল ইউক্রেন। জেলেনস্কির যন্ত্রদানবের দল কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করল রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি। এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন এই ঘটনা কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক সিনেমা টার্মিনেটরের বাস্তব রূপ।

Advertisement

সম্প্রতি ইউক্রেনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেনা নয়, শুধুমাত্র রোবট ও ড্রোনের সাহায্যে অভিযান চালিয়ে রাশিয়ার এক ঘাঁটি দখল করেছে তারা। এই অভিযানে কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ইউক্রেন বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। কোনও রক্তপাতও হয়নি এই যুদ্ধে। রাশিয়ার সেনা ইউক্রেনের যন্ত্র সৈন্যের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। ফলে রুশ সেনারও কোনও রক্তক্ষরণ হয়নি। গত ১৩ এপ্রিল এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন খোদ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘গোটা অপারেশন ছিল মানব শূন্য। এখানে পাঠানো হয়েছিল বহু রোবট ও ড্রোন।’

Advertisement

সুযোগ বুঝে এফপিভি, কামকাজির মতো মারণ ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যে হামলা চালায়। গ্রাউন্ড রোবটগুলি রাশিয়ার বাঙ্কারগুলিকে ধ্বংস করে।

জানা যাচ্ছে, এই অভিযান চালানোর আগেই বিরাট নজরদারি চালানো হয় ড্রোনের মাধ্যমে। এরপর সুযোগ বুঝে এফপিভি, কামকাজির মতো মারণ ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যে হামলা চালায়। গ্রাউন্ড রোবটগুলি রাশিয়ার বাঙ্কারগুলিকে ধ্বংস করে। বিস্ফোরক বোঝাই রেটল রোবটগুলি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় শত্রুর ঘাঁটিগুলিতে। মেশিনগান যুক্ত রোবটগুলিও হামলা শুরু করে শত্রুকে নিশানা করে। দাবি করা হচ্ছে, যন্ত্রদানবের ভয়াবহ সেই হামলার সামনে টিকে থাকতে পারেনি রুশ সেনা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করে তারা।

Advertisement

রোবটভিত্তিক এই অভিযান যে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষার প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে সে কথা স্পষ্ট করে জেলেনস্কি বলেন, “মানব সেনার পরিবর্তে ২০২৬ সালেই ১৬৭টি রোবট নিযুক্ত হয়েছে সেনায়। গত ৩ মাসে ড্রোন ও রোবটের মাধ্যমে ২২,০০০-এরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে।” তাঁর কথায়, মানুষের জীবন রক্ষায় রোবটই এখন প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের। যে কোনও যোদ্ধার পরিবর্তে রোবট সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকায় সহজে প্রবেশ করতে সক্ষম। প্রযুক্তি নির্ভর এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ২২০০০ সেনার জীবন রক্ষা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জেলেনস্কির এই সাফল্যে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এখন লড়াই আর মানব সেনায় সীমান্তে গোলা-গুলিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা হয়ে উঠেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আস্ফালনে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.