৪ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা যুদ্ধে ইউক্রেনের (Ukraine) আর্থিক সংকট চরমে উঠেছে। এদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পর্যাপ্ত অস্ত্র প্রয়োজন। যা কিনতে চাই বিপুল অর্থ। গুরুতর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার অভিনব পদক্ষেপ করতে চলেছে জেলেনস্কির প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, দেউলিয়া অবস্থা সামাল দিতে দেশের পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে আইনি ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির উপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে তা বৈধ করতে চলেছে ইউক্রেন।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, দেশের পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে বৈধ ঘোষণা করতে ইতিমধ্যেই সংসদে বিল পেশ করেছেন বিরোধী দলের সাস্নগসদ ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক। তাঁর দাবি সরকার এই ইন্ডাস্ট্রিকে বৈধ করলে বছরে ২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই টাকায় অন্তত ৩০ হাজার ড্রোন কেনা যায়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে। গত জুলাই মাসে পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি প্রথম দফার ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় হবে ভোট গ্রহণ। আপাতত পরিস্থিতি যে পথে এগোচ্ছে তাতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে বৈধ করতে বিশেষ আপত্তি নেই জেলেনস্কি সরকারের।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি আইনত নিষিদ্ধ। কেউ সেই আইন ভাঙলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইনিভাবে নিষিদ্ধ হলেও লুকিয়ে চুরিয়ে তৈরি হয় পর্ন কনটেন্ট। যা ইন্টারনেটের দৌলতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সরকারের পকেট অবশ্য ফাঁকাই থাকে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের মোট ৭,৯০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘অনলি ফ্যানস’ (OnlyFans) থেকে প্রায় ১৩ কোটি ১০ লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করেছিলেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ কামালেও তাদের থেকে ট্যাক্স আদায় করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয় ইউক্রেনের আয়কর দপ্তরকে।
এর জেরে এইসব কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের আয় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির পাশাপাশি বেআইনি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ আনছে সরকার। অনেকে আবার আয়কর দেওয়ার পরও পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছে এই সংক্রান্ত এক পিটিশন জমা দিয়েছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সভিতলানা দ্বর্নিকোভা। এরপরই সেই পিটিশন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ইউক্রেনের বিপুল সংখ্যক জনগণ দ্বর্নিকোভার দাবিকে সমর্থন করেন। যার জেরেই এবার পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে বৈধ করার দাবিতে বিল পেশ হল পার্লামেন্টে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আরও পণ্য আমদানি করুক ভারত, চাইছে বাংলাদেশ! কেন?
-
পুজোর মেনুতে নিরামিষ শুনেই মুখ বাংলার পাঁচ? এই ৩ রেসিপিতেই জমবে পেটপুজো
-
‘হয় চুক্তি করবে, নতুবা নরকে পাঠাব’, রাষ্ট্রসংঘের ভরা সভায় দাঁড়িয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
-
হকিতে ১৬-১ ব্যবধানে জয়, পদকের লক্ষ্যভেদ লক্ষ্য সেনদের, এশিয়ান গেমস পদক তালিকায় কোথায় ভারত?
-
ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, নেতাজি এতখানি উপেক্ষিত কেন?