Rape

ধর্ষণের অভিযোগে ১৬ বছর কারাবাস নির্দোষের! ক্ষমা চাইলেন মার্কিন লেখিকা

চার দশকের ধর্ষক তকমা থেকে মুক্তির শেষে মুখ খুলেছেন ওই ব্যক্তি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২১, ১৬:৫৩

options
link
ধর্ষণের অভিযোগে ১৬ বছর কারাবাস নির্দোষের! ক্ষমা চাইলেন মার্কিন লেখিকা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ”ফিরিয়ে দাও আমার সেই ১২টি বছর।” বহু বছর আগে ছবি বিশ্বাসের কণ্ঠে ‘সবার উপরে’ ছবির এই সংলাপ শোনা গিয়েছিল। সেই সংলাপই ফিরে এল মার্কিন (US) মুলুকে। কয়েকদিন আগেই ধর্ষণের (Rape) অপরাধে সাজা খাটা এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করেছে সেদেশের আদালত। এবার সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন ধর্ষিতা অ্যালিস সেবোল্ড। ‘দ্য লাভলি বোনস’-এর মতো বেস্ট সেলার উপন্য়াসের রচয়িতা অ্যালিস ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি অ্যান্থনি ব্রডওয়াটারের কাছে।

Advertisement

১৯৮১ সালে ষোড়শী অ্যালিস ধর্ষিতা হন। সেই ঘটনার কয়েক মাস পরে অ্যান্থনিকে দেখে নির্যাতনকারী হিসেবে ভেবে নেন লেখিকা। পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে। প্রথম থেকেই ব্রডওয়াটার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও ১৯৮২ সালে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর জেল খাটেন নির্দোষ ওই ব্যক্তি। ১৯৯৮ সালে তিনি ছাড়া পান। কিছুদিন আগে মামলাটির পুনর্বিচার হলে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন ব্রডওয়াটার। এবার তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেন অ্যালিস।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[‘আরও পড়ুন: ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়াতে পারে ওমিক্রন! কেন এমন দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা?]

তিনি বলেন, ”আমি বলতে চাই, আমি সত্যিই দুঃখিত। এবং আপনাকে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে সে কথায় আমি গভীর অনুতপ্ত।” সেই সঙ্গে তিনিও এও জানিয়েছেন, ”আমি জানি কোনও ক্ষমা প্রার্থনাই আপনার জীবনকে আর বদলে দিতে পারবে না।” অন্যায় ভাবে যে ব্রডওয়াটারের জীবন থেকে এতগুলি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেকথাও মেনে নেন অ্যালিস।

Advertisement

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত ‘লাকি’ নামের এক বইয়ে তাঁর উপরে হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন লেখিকা। পরে ‘দ্য লাভলি বোনস’ বইয়েও নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে নিউইয়র্কের সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তিনি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। পরে ব্রডওয়াটারকে দেখে নিগ্রহকারী হিসেবেই মনে হয়েছিল তাঁর। যদিও পরে অন্য আরেকজনকেও সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন অ্যালিস।

[আরও পড়ুন: ইউক্রেনে বাজতে চলেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘণ্টা! রাশিয়াকে হুমকি আমেরিকার]

কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুলের মাইক্রোস্কপিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই দোষী সাব্যস্ত করা হয় ব্রডওয়াটারকে। অ্যালিস সেই প্রসঙ্গ তুলে জানিয়েছেন, গত ৮ দিন যাবৎ তিনি ভেবে চলেছেন, কী করে এমনটা ঘটল। সেই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করেছেন, আসল ধর্ষকের পরিচয় হয়তো কোনও দিনই জানা যাবে না। হয়তো সেই দুষ্কৃতী আরও অনেক নারীকেই ধর্ষণ করেছে। কিন্তু তাকে হয়তো দণ্ডিত করা যাবেই না।

আর ব্রডওয়াটার। জীবনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসে আজ তিনি ৬১ বছরের বৃদ্ধ। জীবন গিয়েছে চলে জীবনের পার। জীবন থেকে চল্লিশটা বছর চলে গিয়েছে ধর্ষকের তকমা মুছতে মুছতে। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৬টি বছর কেটেছে কারাগারের অন্ধকারে। ব্রডওয়াটারের কথায়, ”এই ক’বছরে ক’জন আমাকে তাঁদের বাড়িতে যেতে ও ডিনারে যোগ দিতে ডেকেছেন সেই সংখ্যা গুনতে গিয়ে দেখলাম দশও পেরচ্ছে না! এটা একটা সাংঘাতিক মানসিক আঘাত।” তবে অ্যান্থনির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অ্যালিস ক্ষমা চাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। এক গভীর ক্ষতের মুখে দাঁড়িয়ে হয়তো এইটুকু তাঁর কাছে একমাত্র সান্ত্বনার আলো। যে আলোয় জীবনের আগামী বছরগুলোকে স্বস্তিতে বাঁচার স্বপ্নই এখন একমাত্র পাথেয় ব্রডওয়াটারের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন