মুগাবে জমানার অবসান! জিম্বাবোয়ের রাজপথে বাসিন্দাদের উল্লাস

মুগাবে যে ফিরছেন না সেটা একপ্রকার নিশ্চিত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৭, ১২:৫১

options
link
মুগাবে জমানার অবসান! জিম্বাবোয়ের রাজপথে বাসিন্দাদের উল্লাস

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জিম্বাবোয়ের রাজধানী হারারে। বিবিসি সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে জমানার অবসানের খবর শুনে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের আশা, দেশে এক নয়া যুগের সূচনা হতে চলেছে। সূত্রের খবর, হারারের রাজপথে বাসিন্দাদের মিছিলকে কর্ডন করে নিয়ে গিয়েছে সেনা। এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর মুগাবে আর আদৌ ক্ষমতায় ফিরবেন, এমন আশা তাঁর খুব বড় সমর্থকও করছেন না।

Advertisement

 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সঙ্গে ‘তাৎপর্যপুর্ণ আলোচনা’ ‘ইতিবাচক’ পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী। সেনা সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষমতা থেকে ‘সসম্মানে’ সরে যেতে মুগাবের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনা চালাচ্ছেন বাছাই করা সেনা কর্তারা। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন মুগাবে ঘনিষ্ঠ এক যাজক। ৩৭ বছর প্রেসিডেন্ট থাকার পর ৯৩ বছরের মুগাবের অপসারণ একরকম পাকা। তাঁর ৫২ বছরের স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে নয়া প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিযুক্ত করার যে জোরালো প্রস্তাব সেনার কাছে রেখেছিলেন তা পত্রপাঠ খারিজ করে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যদি সসম্মানে মুগাবে সরে না যান তাহলে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হবে সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, যে কোনও শর্তেই মুগাবে সেনার হাতে তাঁর ক্ষমতা হস্তান্তর করুন না কেন, বিপুল দুর্নীতি, স্বৈরাচার চালানোর দায়ে তাঁর স্ত্রী ও বাছাই করা কয়েকজন অনুগামীকে সেনা গ্রেপ্তার করে আদালতে তুলবে বিচারের জন্য। এ ব্যাপারে কোনও আপস বা দর কষাকষি করা হবে না। মুগাবের স্ত্রী ও অনুগামীদের গ্রেপ্তারির ইঙ্গিত দিয়ে সেনার দাবি, তারা দেশ থেকে দুর্নীতি, অপশাসন ও স্বৈরাচারের আগাছা উপড়ে ফেলতে চায়।

এদিকে, রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও জিম্বাবোয়ের পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি আফ্রিকান নেশনস্, আফ্রিকান ইউনিয়ন, রাষ্ট্রসংঘ এবং আমেরিকা। এই অবস্থায় সেনাদের ফ্ল্যাগ মার্চ, সাঁজোয়া গাড়ি এবং অসংখ্যা ট্যাঙ্কের টহলদারিতে রাজধানী হারারের পরিস্থিতি থমথমে। বৃহস্পতিবার মুগাবের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মর্গান ভ্যানগিরাই দেশে ফিরে এসেছেন বলে খবর মিলেছে একটি সূত্রে। মুগাবেকে হটিয়ে জিম্বাবোয়েতে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গড়ার কথা ভাবা হচ্ছে, তখন ভ্যানগিরাইয়ের ফিরে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য এত দিন বিদেশে ছিলেন এই বিরোধী নেতা। দু’টি সূত্রে তাঁর প্রত্যাবর্তনের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বিরোধী দল ‘ভ্যানগিরাই মুভমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাটিক চেঞ্জ’-এরই এক প্রবীণ সদস্য জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। নয়া প্রশাসনে বিরোধীরা যথাযথ মর্যাদায় থাকবে বলেই ওই সদস্যের দাবি। সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থনও আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জিম্বাবোয়েতে ফের নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছর। তত দিন পর্যন্ত স্বৈরাচারে অভিযুক্ত মুগাবেকে ক্ষমতায় রাখতে চায় না সেনা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন