Vikram Samvat 2083

নববর্ষের আগেই মহাসংকট! রৌদ্র সংবৎসরের ভ্রুকুটি, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জ্যোতিষীরা

গ্রহ-নক্ষত্রের ফেরে কি ফের অগ্নিগর্ভ হতে চলেছে বিশ্ব? মহাকাশে গ্রহরাজ শনি আর সেনাপতি মঙ্গলের অশুভ আঁতাঁত কি বড় কোনও বিনাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে? হিন্দু নববর্ষ বিক্রম সংবৎ ২০৮৩-র শুরুতেই এমন আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জ্যোতিষীরা। এই পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ একটি বছর। দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফিরে এসেছে ‘রৌদ্র সংবৎ’।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৬:১৪

options
link
নববর্ষের আগেই মহাসংকট! রৌদ্র সংবৎসরের ভ্রুকুটি, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জ্যোতিষীরা
দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফিরে এসেছে ‘রৌদ্র সংবৎ’। কী বলছেন জ্যোতিষীরা?

গ্রহ-নক্ষত্রের ফেরে কি ফের অগ্নিগর্ভ হতে চলেছে বিশ্ব? মহাকাশে গ্রহরাজ শনি আর সেনাপতি মঙ্গলের অশুভ আঁতাঁত কি বড় কোনও বিনাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে? হিন্দু নববর্ষ বিক্রম সংবৎ ২০৮৩-র (Vikram Samvat 2083) শুরুতেই এমন আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জ্যোতিষীরা। এই পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ একটি বছর। দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফিরে এসেছে ‘রৌদ্র সংবৎ’। শাস্ত্র মতে, এই সংবৎসরের স্বভাবই হল উগ্রতা এবং বিনাশ। শেষবার যখন ১৯৬৬ সালে এই রৌদ্র সংবৎসরের উদয় হয়েছিল, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে ঘটেছিল একাধিক মহাপ্রলয়। ভারতের টালমাটাল রাজনীতিতে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক প্রয়াণ এবং ইন্দিরা গান্ধীর মসনদে বসা— সবটাই ছিল সেই সময়ের ঘটনা। অন্যদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল আমেরিকাকে। ২০২৬ সালেও ঠিক একই রকম এক অস্থির সময়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবী। একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। সব মিলিয়ে রৌদ্র সংবৎসরের দাপটে সিঁদুরে মেঘ দেখছে আমজনতা।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

জ্যোতিষ গণনা বলছে, বর্তমান গ্রহ সংস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। কুম্ভ রাশিতে শনিদেব আগে থেকেই জাঁকিয়ে বসে আছেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাহু ও মঙ্গলের প্রভাব। আগামী ২ এপ্রিল থেকে মীন রাশিতে শুরু হবে শনি ও মঙ্গলের বিপজ্জনক দ্বৈরথ। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি ও মঙ্গল উভয়কেই উগ্র গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দুই গ্রহের মিলন মানেই হিংসা, রক্তপাত এবং যুদ্ধবিগ্রহের প্রবল সম্ভাবনা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে যুদ্ধের দামামা বাজছে, তাতে আমেরিকা জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই গ্রহযোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

ইংরেজি ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টাব্দের সঙ্গে সাধারণত ৫৭ বছর যোগ করলে বিক্রম সংবৎ পাওয়া যায়। সেই হিসেবে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের চৈত্র নবরাত্রি থেকে এই ২০৮৩ বিক্রম সংবৎ শুরু হবে।এবছরের চৈত্র নবরাত্রি ইতিমধ্যে সেই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছে। এবারে দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থান ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, মা দুর্গার পালকিতে আগমন মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। এটি সাধারণত জনমানসে অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির সূচক। তবে আশার আলো এই যে, দেবীর গজে বা হাতিতে প্রস্থান নির্দেশ করছে অধর্মীদের বিনাশ। অর্থাৎ প্রবল সংঘাতের মধ্যে দিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত অশুভ শক্তির পতন নিশ্চিত। কিন্তু সেই শান্তির আগে বিশ্ব মানচিত্রে বড় ধরনের রদবদল বা রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সংবৎসরের নাম যখন ‘রৌদ্র’, তখন রুদ্ররূপী পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকাই শ্রেয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.