Mongla Port

খাল কেটে ‘ড্রাগন’ আনলেন তারেক! বঙ্গোপসাগরের মোংলা বন্দরে চিনা আধিপত্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে দিল্লি

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি সপ্তাহে বেজিং সফরে গিয়ে চিনের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করেন। যার জেরে শীঘ্রই সুন্দরবন লাগোয়া এই অঞ্চলে কাজ শুরু করবে বেজিং।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৬:৫৬

options
link
খাল কেটে ‘ড্রাগন’ আনলেন তারেক! বঙ্গোপসাগরের মোংলা বন্দরে চিনা আধিপত্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে দিল্লি
মোংলা বন্দরে চিনা আধিপত্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে দিল্লি।

বাংলাদেশের হাত ধরে এবার সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পা রাখতে চলেছে চিন! সদ্য বেজিং সফরে মোংলা বন্দরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যা ভারতের জন্য সিঁদুরে মেঘ বলে মনে করা হচ্ছে। হাসিনা আমলে এই বন্দরের উন্নয়নের বরাত দিল্লিকে দিয়েছিল ঢাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেখানে এবার চিনের প্রবেশ ভারতের জন্য উদ্বেগের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের জেরে ভারত মহাসাগরের পর এবার বঙ্গোপসাগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াবে চিন।

Advertisement

বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অধিকার কায়েম করতে দীর্ঘ বছর ধরে মোংলা বন্দরে নজর ছিল চিনের। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর চিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে ২০১৫ সালে মোংলা বন্দরের কাজ পরিচালনা করতে আগ্রহ দেখায় ভারত। সেই সময় বাংলাদেশে ছিল হাসিনা সরকার। এই বন্দর নিয়ে দুই দেশের আলোচনা বহুদূর অগ্রসরও হয়। ২০১৮ সালে সম্পন্ন হয় চুক্তিও। তবে ২০২৫ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর বদলে যায় সবকিছু। উপদেষ্টা সরকারের আমলে মহম্মদ ইউনুস ভারতের সঙ্গে এই বন্দর চুক্তি বাতিল করেন। এরপর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি সপ্তাহে বেজিং সফরে গিয়ে চিনের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। যার জেরে শীঘ্রই সুন্দরবন লাগোয়া এই অঞ্চলে কাজ শুরু করবে বেজিং। ভারতের দুয়ারে চিনের এই দাপাদাপি দিল্লির জন্য মোটেই সুখের নয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের জেরে ভারত মহাসাগরের পর এবার বঙ্গোপসাগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াবে চিন।

এমনিতে কোনও বন্দরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অর্থ কোনওভাবেই সেখানে সামরিক প্রবেশাধিকার নয়। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে বিষয়টি খাটে না। গত কয়েক বছরে চিন সামুদ্রিক সিল্ক রোড প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর জুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েই চলেছে। পাকিস্তানের গদর বন্দর থেকে শুরু করে পূর্ব আফ্রিকার জিবুতি পর্যন্ত ভারত মহাসাগরের ১৭টি বন্দরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে তারা। চিনের লক্ষ্য গোটা ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার। তবে আর্থিক বিনিয়োগের আড়ালে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিদেশের বন্দরগুলিতে সামরিক জাহাজ পাঠিয়ে সেই সব অঞ্চলের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নজরদারি চালানোর।

Advertisement

অতীতে এই ছবি দেখা গিয়েছে শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা বন্দরে। কৌশলগতগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে চিনা বিনিয়োগকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছিল কলম্বো। তবে বিশাল ঋণের বোঝা মেটাতে না পেরে, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সরকার চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘চায়না মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিং’-কে বন্দরটির ৭০% মালিকানা দিয়ে বাকি অংশ ৯৯ বছরের জন্য লিজে দিয়ে দেয়। অভিযোগ ওঠে, ভারতের উপর নজরদারি চালাতে এবং গুপ্তচরবৃত্তি বাড়াতে হামবানটোটার দায়িত্ব নিয়েছে চিন। ভারতের অভিযোগকে বেজিং উড়িয়ে দিলেও একাধিকবার ওই বন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় চিনা যুদ্ধজাহাজ ও নজরদারি জাহাজের আনাগোনা চাপে ফেলে ভারতকে।

মানচিত্রে মোংলা বন্দর।

এরপর একেবারে বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবনের মোংলা বন্দরে চিনের ঢুকে পড়া ভারতের জন্য সিঁদুরে মেঘ বলেই মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার ২২ কিলোমিটারের চিকেন নেকে দীর্ঘদিন ধরেই নজর রয়েছে চিনের। বাংলাদেশ থেকেও বহুবার হুমকি এসেছে চিকেন নেক কেটে ভারতের ৭ রাজ্য দখলের। ঠিক সেই সময় উত্তর-পূর্বে চিনের দাপাদাপির পর বঙ্গোপসাগরে ড্রাগনের অনুপ্রবেশ ভারতকে চাপে ফেলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.