সুকুমার সরকার, ঢাকা: উত্তেজনাার মাঝেই বাংলাদেশে শুরু বিএনপির গণসমাবেশ। এদিন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয় বিরোধী দলের সভা। অপ্রিয় ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী শহর ঢাকাকে। রাস্তায়-রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় অঘোষিত বনধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন কর্মী নিহত ও পুলিশ-সহ অর্ধশত কর্মী জখম হন। এরপর থেকেই বাইরের জেলা ও থানা থেকে মানুষের ঢাকায় আসা বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীর অভাবে দূরপাল্লার বাস চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। জরুরী কাজ ব্যতিত রাজধানীবাসীও ঘর থেকে বাইরে বের হননি। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার সকাল ১১টায় শুরুর ঘোষণা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থাৎ দশটা বিশ মিনিটে তা শুরু হয়। যদিও দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁরা সমাবেশে উপস্থিত হতে পারেননি। পৃথক চারটি থানার মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-সহ প্রায় পাঁচশো নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকায় চলছে পুলিশের জোর তল্লাশি।
[আরও পড়ুন: বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জেহাদ, বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় বাংলাদেশের সানজিদা]
পুলিশের ওপর হামলা ও ভাংচুরের মামলা দায়েরের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রক্তন সভাপতি আবদুল কাদের জুয়েলকে আটক গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবারের মহাসমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, রাজশাহীর প্রাক্তন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, আবদুল্লা আল নোমান, হাবীব উন নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল-সহ বিএনপির অনেক নেতা সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। এর আগে সকাল থেকে বিএনপির জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সভা মঞ্চে উপস্থিত হন।
এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোলাপবাগ-ধলপুর-সায়দাবাদ রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতা-কর্মী নিহত এবং চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব বিভাগে বিএনপির গণসমাবেশের অংশ হিসেবে আজ শনিবার ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। আজ সমাবেশ থেকে দশ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গণসমাবেশ কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। সাধারণ মানুষের মনেও ছিল প্রবল শঙ্কা।
আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর রাস্তাঘাট ফাঁকা। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম। পথচারী ও যাত্রীর উপস্থিতিও হাতে গোনা। প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে গতকাল শুক্রবারও ছিল তালা। সড়কে ছিল ব্যারিকেড। এই সড়কের বিভিন্ন অলিগলিতেও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও মোতায়েন পুলিশ। অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থান নিতে না পারেন, সে জন্য পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাঁরা নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই এলাকায় সাধারণ মানুষকে আসতে দেওয়া হয়নি।
[আরও পড়ুন: বাতাসে বিষ! বাংলাদেশে প্রতিবছর দূষণ কেড়ে নেয় ৮০ হাজার মানুষের প্রাণ]
সর্বশেষ খবর
-
বউভাতের রাতেই উত্তম-সাক্ষাৎ! মহানায়কের জন্মশতবর্ষে স্মৃতিমেদুর উলুবেড়িয়ার মৃদুলা দেবী
-
দেহ টুকরো করে বস্তায় বেঁধে ভাসাল ‘প্রেমিকা’, ফরাক্কায় উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহাংশ, নেপথ্যে পরকীয়া?
-
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে ছবির শুটিংয়ে ‘উত্তম স্মৃতি’, রাজবাড়ির দরজা খোলার আর্জি অনুরাগীদের
-
‘ধোনি বলেছে ও আর খেলবে না’, আগামী আইপিএলের আগে বোমা ফাটালেন প্রাক্তন সতীর্থ
-
বাগবাজার সার্বজনীনের পুজো ঘিরেই অনিশ্চয়তা! জট কাটাতে জল গড়াল হাই কোর্টে