পদ্মাপাড়ে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আনন্দ আলাদা। সাবেকি প্রতিমা, মণ্ডপ আর মন্ত্রোচ্চারণে বছরের কয়েকটা দিন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। তাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলমানদেরও শামিল হতে দেখা যায়। বাংলাদেশের (Bangladesh) যে ক’টি দুর্গাপুজো বিখ্যাত, তার মধ্যে একটি নোয়াখালির কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালি জেলার সেনবাগ উপজেলার অর্ন্তগত দক্ষিণ মোহাম্মদপুরের এই পুজো। ২০২৫ সালে কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের পুজোর মূল আকর্ষণ ছিল, ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা। এবছর, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে – মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার। প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে নোয়াখালির কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। এখানে দুর্গাসংঘ নামে একটি শক্তিশালী স্বেচ্চাসেবী সংগঠন রয়েছে। তারা মন্দিরের এই দুর্গাপুজো ছাড়াও মন্দিরের সকল পুজো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে থাকেন।
মন্দিরের ভিতর মা দুর্গার বিগ্রহটি লোহার ফটকে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে সারাবছর। এর সামনে রয়েছে দান বাক্স। যে কেউ সাধ্যমত তাতে অর্থদান করতে পারেন, যা মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ-সহ আনুষাঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হয়।
কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই গ্রামের মানুষদের ধারণা, এই মন্দিরটি আজ থেকে ৩০০ বছর আগে তৎকালীন রাজা রামেন্দ্র রায়চৌধুরী তার নিজের এলাকায় প্রায় এক একর জায়গার উপরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর বংশধর এবং দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মানুষদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকের এই মন্দির রূপ পেয়েছে। রাজা রামেন্দ্র রায়চৌধুরী গ্রামের দক্ষিণ দিকের কোন এক চর থেকে এখন বসবাসরত ব্রাহ্মণদের আনেন এখানে পুজো দেওয়ার জন্য। পরবর্তীতে তাঁদের বংশধররা এই মন্দির বংশক্রমানুসারে পুজো করে আসছেন। শুরুতে এই মন্দিরে ঘট পুজো করা হলেও আস্তে আস্তে প্রতিমা গড়ে পুজো শুরু হয়। প্রথমদিকে এখানে কোনও স্থায়ী মন্দির না থাকলে ও বর্তমানে এখানে বেশ সুন্দর এবং বড় একটি মন্দির রয়েছে, যা নজরকাড়া।
বর্তমানে এখানে দুই জন স্থায়ী ব্রাহ্মণ এবং একজন অস্থায়ী ব্রাহ্মণ আছেন। আর দুর্গাপুজোর সময় আরও দু’জন ব্রাহ্মণ আসেন আর তাঁরা তখন প্রধান পূজারী হিসাবে কাজ করেন। প্রতি বছর বেশ ধুমধামের সাথে এখানে দুর্গাপুজো করা হয়। কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ঢাকা-নোয়াখালি রাস্তার পাশে ও কল্যান্দী হাই স্কুল থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মূল মন্দিরের বাইরে রয়েছে শিব মন্দির, শ্রাদ্ধ বাসর, সর্ব মন্দির পরিক্রমা এবং সুন্দর একটি পুকুর। আর এই সবকটি মন্দিরের ভিতরে রয়েছে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। তাছাড়া রাস্তা থেকে মূল মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে, কৃষ্ণ বলরামের বিগ্রহ সজ্জিত একটি সুন্দর গেট। প্রবেশের আগে বাম দিকে রয়েছে মা শীতলা দেবীর মন্দির। আর ডানদিকে শ্রাদ্ধ বাসর এবং তার পাশে শিব মন্দির। এরপরেই ডান পাশে রয়েছে শানবাঁধানো একটি পুকুর। আর তারপর রয়েছে সর্ব মন্দির পরিক্রমা, সঙ্গে রাধাোগোবিন্দর মন্দির।
এই মন্দিরের মধ্যে রাধাগোবিন্দের বিগ্রহ ছাড়াও গোপালের বিগ্রহ আছে। আর এই মন্দিরের পাশে রয়েছে দুর্গা মায়ের মন্দির। এই মন্দিরে প্রতিদিন রাধাগোবিন্দর নিত্য নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়। কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এর মূল পুজো হলো দুর্গাপুজো। দুর্গাপুজোর পাঁচদিন ধরে এখানে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে পুজো সম্পন্ন করা হয়। পুজোর সময় বাংলাদেশের দূরদূরান্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক ভক্তের সমাগম হয়। তবে এই দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এখানে অন্যান্য পুজোও দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম, কালীপুজো, সরস্বতী পুজো, লক্ষ্মী পুজো, জন্মাষ্টমী, শিবরাত্রি, দোল পূর্ণিমা, চৈত্র সংক্রান্তি-সহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান। রয়েছে দেবী পার্বতী, শ্রীশ্রী কৈলাশ্বেশ্বর শিবলিঙ্গ। এছাড়াও আছে শ্রীশ্রী দুর্গা নাটমন্দির। কার্তিক মাসে প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করা হয়। তত্ত্বাবধান ও মন্দির পরিচালনায় একটি সুদক্ষ পরিচালনা কমিটি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হিরো মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল
-
‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসুন’, দল ভাঙার পরও ‘গদ্দার’দের জন্য দরজা খোলা মমতার!
-
টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য! এবার অন্য ভারতীয় দলে এন্ট্রি ভুবনেশ্বরের, এই টুর্নামেন্টে দেবেন নেতৃত্ব